Koyel Mallick

কয়েক মাসেই ফুলবদল! তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে কোয়েল, মানুষের সেবা করা নেশা, দাবি অভিনেত্রীর

কয়েক মাসেই রাজনৈতিক ঠিকানা বদল কোয়েল মল্লিকের। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মানুষের সেবা ও কল্যাণে কাজ করার সুযোগকেই বড় কারণ হিসেবে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী।

তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেন কোয়েল মল্লিক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ০১:৫৯

মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে বদলে গেল রাজনৈতিক ঠিকানা। জোড়াফুল ছেড়ে এবার পদ্মফুলে অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন তিনি। একইসঙ্গে রাজ্যসভার সদস্য হতে পেরে গর্বিত বলেও জানান অভিনেত্রী। তাঁর দাবি, দেশের মানুষের সেবা ও কল্যাণে কাজ করার সুযোগ করে দেবে এই রাজনৈতিক মঞ্চ।

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন কোয়েল। এরপর রাজ্যসভার সদস্যও হন। নির্বাচনে দলের পরাজয়ের পর রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। সেই সময় থেকেই তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত বিজেপির তরফে রাজ্যসভার মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা হয়। সোমবার পদ্মশিবিরে আনুষ্ঠানিক যোগদানের মধ্য দিয়ে সেই জল্পনার অবসান হল।

কিন্তু কেন এই ফুলবদল? সাংবাদিক বৈঠকে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন কোয়েল। ছোটবেলার স্মৃতিচারণা করে তিনি জানান, বাবা রঞ্জিত মল্লিককে সংবাদপত্র পড়ে প্রায়ই বলতে শুনতেন-রাজ্যে আরও স্কুল হওয়া দরকার, বাংলার ছেলেমেয়েরা কেন বাইরে গিয়ে কেরিয়ার তৈরি করবে, রাজ্যের মধ্যেই কেন সেই সুযোগ তৈরি হবে না। কোয়েলের কথায়, রাজনীতি তাঁকে সেই ‘ইচ্ছা’ গুলির জায়গায় বাস্তবে কিছু করার সুযোগ দেবে। তৃণমূল সরকারের আমলেও এমন বহু ‘ইচ্ছা’ থেকে গিয়েছে বলে ইঙ্গিত করলেও তা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি অভিনেত্রী।

তবে বিজেপি-তে যোগদানের প্রধান কারণ হিসেবে গত কয়েক মাসের উন্নয়নের কথাই তুলে ধরেছেন কোয়েল। তাঁর বক্তব্য, সেই উন্নয়ন দেখেই বিজেপি-তে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে খারাপ কথা বলতে চান না বলেও স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী।

সোশ্যাল মিডিয়ার ‘টক্সিসিটি’ নিয়েও মুখ খোলেন কোয়েল। তাঁর মতে, কাজের সুযোগ ও শিক্ষার পরিকাঠামো বাড়লে মানুষের হতাশা কমবে। ব্যক্তি আক্রমণকারীদের প্রতিও তাঁর রাগ নেই। মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী হিসেবে তিনি মনে করেন, এই ধরনের মন্তব্যের পিছনে অনেক সময় ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও অসুখী মানসিকতা কাজ করে।

ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবার প্রতি আগ্রহের কথাও জানান কোয়েল। গরমের ছুটিতে মায়ের সঙ্গে মিশনারিজ অফ চ্যারিটিতে যাওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছে তাঁর বরাবরই ছিল। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক রাজনৈতিক দল নিজেদের মতো করে ভাল করার চেষ্টা করে। তবে তিনি এমন একটি দলে যোগ দিতে পেরে খুশি, যেখানে গত কয়েক মাসে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ হচ্ছে।


Share