Kolkata Municipal Corporation

পুজোর কলকাতায় এলইডি বিজ্ঞাপনে চড়া কর! প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা, জাম্বো বোর্ডে দিনে ৫০ হাজার

পুরসভার সার্কুলার অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞাপন দফতরে লিখিত আবেদন করতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। আগামী ৩ অক্টোবরের আগে কোনও হোর্ডিং, ফ্লেক্স বা ব্যানার লাগানো যাবে না।

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:৪৬

প্রায় দু’দশক পর পুজোর কলকাতায় রাস্তায় ওভারগেট, হোর্ডিং-ব্যানার লাগানোর ক্ষেত্রে কড়া নিয়ম চালু করল কলকাতা পুরসভা। প্রতিটি হোর্ডিং, ব্যানার বা গেট বসানোর আগে পুরসভার ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুরসভার সার্কুলার অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিজ্ঞাপন দফতরে লিখিত আবেদন করতে হবে পুজো কমিটিগুলিকে। আগামী ৩ অক্টোবরের আগে কোনও হোর্ডিং, ফ্লেক্স বা ব্যানার লাগানো যাবে না। পুজো শেষ হওয়ার পর ২৯ অক্টোবরের মধ্যে সব হোর্ডিং খুলে ফেলতে হবে।

এরই মধ্যে এলইডি বিজ্ঞাপন নিয়েও পুরসভা বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বার এলইডি বিজ্ঞাপনের জন্য প্রতি বর্গফুটে ৬০০ টাকা হারে আগাম কর জমা দিয়ে অনুমতি নিতে হবে। অনুমোদনের পর এলইডির সঙ্গে পারমিশন আইডি নম্বরও লাগিয়ে রাখতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে শহরের একাধিক নামী পুজো কমিটি এলইডি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করত। দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারী অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি নামী পুজোর দীর্ঘ এলাকায় এ ধরনের ডিজিটাল বোর্ড বসানো হয়। এ বারও সেখানে বুকিং সম্পূর্ণ বলে জানা গিয়েছে। তবে নতুন করের হারে চাপে পড়েছে বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলি। একটি এলইডির জন্য দৈনিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা এবং জাম্বো এলইডির ক্ষেত্রে প্রায় ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরকর দিতে হতে পারে।

ওভারগেটের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট মাপ বেঁধে দিয়েছে পুরসভা। বিজ্ঞাপনের জন্য বাঁশের অস্থায়ী গেটের সর্বোচ্চ উচ্চতা ২২ ফুট রাখা যাবে। হোর্ডিং, ব্যানার বা ফ্লেক্স এমন ভাবে বসাতে হবে, যাতে স্থায়ী হোর্ডিং, রাস্তার আলো বা যাত্রী ছাউনিতে কোনও সমস্যা না হয়। অনুমোদিত হোর্ডিংয়ে পুরসভার পারমিশন আইডি, পুজো কমিটির নাম এবং বিজ্ঞাপনদাতার নাম ও ফোন নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

জালিয়াতি ঠেকাতেও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে পুরসভা। পুজোর হোর্ডিং, ব্যানার এবং এলইডি বিজ্ঞাপনের অনুমতিপত্রে বিশেষ কিউআর কোড দেওয়া হচ্ছে। সেটি স্ক্যান করে অনুমতির বৈধতা যাচাই করা যাবে। ফলে পুজোর মরসুমে শহরের রাস্তায় বিজ্ঞাপন বসানো থেকে শুরু করে এলইডি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও পুরসভার নজরদারি আরও কড়া হতে চলেছে। 


Share