Kolkata Police Transfer

‘আমার বাবাকে চেনেন?’, গাড়ি ধরতেই হুমকি যুবকের, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ‘ক্লোজ’ কলকাতা পুলিশ ট্রাফিক সার্জেন্ট, নেপথ্যে ‘চাপ’?

বৃহস্পতিবার রাতে দেশপ্রিয় পার্কের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। সেই সময় সেখানে নাকা তল্লাশির ডিউটি করছিলেন সার্জেন্ট শান্তনু নায়েক। একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে চালককে মুখে ব্রেথালাইজার ধরা হয়। তার পরেই পরিস্থিতি অন‍্য দিকে মোড় নেয়।

প্রতীকী চিত্র।
ইন্দ্রজিৎ মল্লিক, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৯

রাতে নাকা তল্লাশিতে কর্তব্যরত অবস্থায় ছিলেন কলকাতা পুলিশের এক ট্রাফিক সার্জেন্ট। সরকারি নিয়ম মেনে চলছিল ‘সন্দেহজনক’ গাড়িতে তল্লাশির কাজ। সেই সময়ই আটকেছিলেন একটি ‘সন্দেহজনক’ গাড়ি। কেন সেই গাড়ি আটকানো হয়েছে তা নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ, গাড়ির ভিতরে থাকা যুবক বলে, ‘আমার বাবাকে চেনেন?’ পুলিশ সূত্রের খবর, ওই যুবক মদ‍্যপ অবস্থায় ছিলেন। ব্রেথালাইজার দিয়ে পরীক্ষা করাতে গেলেই অশান্তি শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে দেশপ্রিয় পার্কের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে। সেই সময় সেখানে নাকা তল্লাশির ডিউটি করছিলেন সার্জেন্ট শান্তনু নায়েক। একটি গাড়ি দাঁড় করিয়ে চালককে মুখে ব্রেথালাইজার ধরা হয়। তার পরেই পরিস্থিতি অন‍্য দিকে মোড় নেয়। গাড়ির ভিতরে থাকা যুবক সার্জেন্টকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘আমাকে চেনেন? আমার বাবাকে চেনেন?’। বেশ কিছু ক্ষণ উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরে ট্রাফিক গার্ডের হস্তক্ষেপে তা থেমে যায়।

গাড়িতে কলকাতা পুলিশের এক প্রভাবশালী ‘ডেপুটি কমিশনার’-এর ছেলে ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, শুক্রবার ওই সার্জেন্টকে লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয়। সেখানে ডেপুটি কমিশনার (ট্র্যাফিক)-এর কাছে শান্তনু নায়েককে ‘পুট আপ’ করানো হয়। সেখানেই লালবাজারে বদলির কথা জানানো হয়। যদিও এই আচমকা বদলির কোনও বিভাগীয় নির্দেশ বেরোনোর খবর আসেনি। কলকাতা পুলিশের ডিআরও থেকে আপাতত সার্জেন্ট শান্তনুকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে। পুলিশের একাংশ মনে করছেন, ওই প্রভাবশালী পুলিশকর্তার ‘চাপে’ ওই ট্র্যাফিক সার্জেন্টকে বদলি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের আরও খবর, সেই ঝামেলা মেটাতে ওই প্রভাবশালী ‘ডেপুটি কমিশনার’ ঘনিষ্ঠ পুলিশ আধিকারিকেরা সেখানে আসেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য লালবাজারের পদস্থ এক আধিকারিকের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে যোগাযোগ করা যায়নি। তিনি ফোন বা মেসেজের কোনও জবাব দেননি। তবে ট্র্যাফিক সার্জেন্টের এই আচমকা বদলির জেরে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়েছে পুলিশ মহলে।


Share