STF D Task Force

স্ক‍্যানারের নীচে শহরে ‘বিদেশি অনুপ্রবেশকারী’, বাংলাদেশি চিহ্নিত করতে ছ’সদস‍্যের টাস্ক ফোর্স গঠন করল লালবাজার

গত ২০২০ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তৃণমূল জমানায় সেই নির্দেশিকা কার্যকর করেননি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এসে সেই নির্দেশকে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

অনুপ্রবেশকারী ধরতে টাস্ক ফোর্স গঠন করল লালবাজার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬ ১১:১২

কলকাতা শহরে অবৈধ ভাবে বসবাসকারী বিশেষ করে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে এ বার টাস্ক ফোর্স গঠন করল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দ এই টাস্ক ফোর্স গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। মোট চার জনকে এই টাস্কফোর্সে রাখা হয়েছে। কী ভাবে এই টাস্ক ফোর্স কাজ করবে তার বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। 

গত ২০২০ সালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছিল। তৃণমূল জমানায় সেই নির্দেশিকা কার্যকর করেননি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি ক্ষমতায় এসে সেই নির্দেশকে কার্যকর করার জন্য নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সেই নির্দেশিকা মেনে গত ১৯ জুলাই লালবাজার টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে। এই টাস্ক ফোর্সের নাম দেওয়া হয়েছে ‘এসটিএফ-ডি’।

লালবাজারের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কলকাতা শহরের বিদেশি নাগরিকক (বিশেষ করে বাংলাদেশি) যারা অবৈধ ভাবে বসবাস করছে তাদের চিহ্নিত করবে এই টাস্ক ফোর্স। কারা এই দেশে এসে অবৈধ ভাবে রয়ে গিয়েছে তাদের খুঁজে বের করবে এই এসটিএফ-ডি। তার জন‍্য টাস্ক ফোর্স মাঠপর্যায়ে তদন্ত চালাবে। ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫-এর আইন অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। কলকাতার ডেপুটি কমিশনার, রাজ্য পুলিশের আইবি, এফআরআরও এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে এই কাজ করা হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকা মেনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হল, তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করবে টাস্ক ফোর্স ‘এসটিএফ-ডি’।

কলকাতা পুলিশের সমস্ত ডেপুটি কমিশনারদেরও বিশেষ দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। বিগত দিনে কলকাতা শহরে যত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতার হয়েছে, সেই সংক্রান্ত মামলার এখন কী অবস্থায় রয়েছে তা ডেপুটি কমিশনারদের তৈরি করতে বলা হয়েছে। যদি তদন্ত বাকি থাকে তা দ্রুত সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ডেপুটি কমিশনারেরা টাস্ক ফোর্সকে লোকবল এবং লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করবে।

দেশে বিদেশি নাগরিকেরা বিভিন্ন কাজে আসে। চিকিৎসা, পড়াশোনা করতে আসে। তার জন‍্য তাদের শহরে থাকতে হয়। কোথায় এই অভিবাসীরা থাকছে, ভিসা, পাসপোর্টের যাবতীয় তথ্য হোটেল, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলিকে ফর্ম-সি পূরণ করে এফআরআরও-কে দিতে হয়। সেই তথ‍্য ডেপুটি কমিশনারেরা যাচাই করবেন। তার পরে রিপোর্ট তৈরি করে টাস্ক ফোর্সের কাছে পাঠিয়ে দেবেন।

এসটিএফ-ডি অগ্রগতির রিপোর্ট যুগ্ম কমিশনার (ইন্টেলিজেন্স) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের কাছে জমা দেবে। তাঁরা কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয়কুমার নন্দকে সময় মতো রিপোর্ট করবেন। পাশাপাশি, একটি রিপোর্ট এফআরআরও-কে পাঠাতে বলা হয়েছে। যাতে তাঁরা এই অবৈধ ভাবে বসবাসকারী চিহ্নিতদের আটক করাতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারে।

এই চার সদস্যের টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্বে সিকিউরিটি কন্ট্রোলের ডেপুটি কমিশনার (II)-কে রাখা হয়েছে। এ ছাড়াও, স্পেশাল ব্রাঞ্চের রেসিডেন্সিয়াল পারমিট সেকশনের ওসি,  ইনভেস্টিগেশন সেলের ওসি এবং ফরেনার্স এনকোয়ারি সেকশন ও ইলিগ্যাল মাইগ্র্যান্টস সেলের ওসিরা এই টাস্কফোর্সে রয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, প্রয়োজনে এসটিএফ-ডি যে কোনও পুলিশ অফিসার বা কর্মীর সহায়তা নিতে পারবে। কলকাতা পুলিশের সমস্ত বিভাগ তাদের পূর্ণ সহযোগিতা করবে। যদি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা দেখা দেয় তা অবিলম্বে সরাসরি কলকাতা পুলিশের কমিশনারের নজরে আনতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 


Share