Cyber Fraud

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ভুয়ো কল সেন্টারে বড়সড় অভিযান, ১০ জন গ্রেফতার, বাজেয়াপ্ত ৪৮টি মোবাইল, ল্যাপটপ-সহ একাধিক সামগ্রী

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, এই প্রতারণাচক্র কীভাবে কাজ করত তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করতে আমরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাঁর কথায়, নেপথ্যে আরও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে।

পুলিশের অভিযানে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১১ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫০

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ভুয়ো কল সেন্টারে বড়সড় অভিযান চালাল পুলিশ। অভিযোগ, টাটা  ক‍্যপিটাল ফিন্যান্সের নামে জাল কাগজপত্র বানিয়ে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের বন্দর ডিভিশন, সাইবার বিভাগ অভিযান চালিয়েছে। ঘটনায় মহিলা-সহ ১০ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। ৪৮টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, মেটিয়াবুরুজ থানার এক ব‍্যক্তি মামলা দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁর ঋণের প্রয়োজন ছিল। এক ব‍্যক্তির দারস্থ হন। ওই ব‍্যক্তি তাঁকে স্বল্প সুদে ঋণ পাইয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে টাটা ক‍্যাপিটাল ফিন্যান্সের কর্মী পরিচয় দেয়। অভিযোগকারীর বিশ্বাস অর্জন করতে টাটা ক‍্যাপিটাল ফিনান্সের কাগজপত্র এবং ডিমান্ড ড্রাফট দেখায়। তাঁর দাবি, ওই কাগজপত্র সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল। প্রতারকেরা দু’লক্ষ ১৮ টাকা পাইয়ে দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এরপর তাঁরা প্রসেসিং ফি, বিমা, কাগজপত্র তৈরি করার চার্জ-সহ বিভিন্ন খাতে টাকা দাবি করা হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে অভিযোগকারী মোট ২০ দফায় ২৫ হাজার ৪৫০ পাঠালেও প্রতিশ্রুত ঋণ পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

এর পরেই তিনি মেটিয়াবুরুজ থানায় এফআইআর দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর বন্দর ডিভিশনের সাইবার সেল প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ করে। প্রতারণাচক্রের অবস্থান শনাক্ত করে। অভিযুক্তদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরেই  গত ৯ জুলাই মেটিয়াবুরুজ থানার পুলিশ ও সাইবার বিভাগের গোয়েন্দারা যৌথ অভিযান চালায়। 

এই ঘটনায় মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে তিনজন মহিলা রয়েছেন। ধৃতদের নাম— রানা বর্মন (৩০), দীপ রায়চৌধুরী (২৩), অংশুমান দে (৩৬), প্রশান্ত হাজরা (৩৮), রাজু দত্ত (৪০), পিঙ্কি সাহা (২০), সঞ্চিতা মণ্ডল (২১), অঙ্কিতা সাহা (২৭) এবং রনি মণ্ডল (৩৩)। লালবাজার জানিয়েছেন, ধৃতদের কাছ থেকে ৪৮টি কিপ‍্যাড মোবাইল, একটি স্মার্টফোন, একটি ল্যাপটপ, ছ’টি সিম কার্ড, দু’টি ভুয়ো রাবার স্ট্যাম্প, সম্ভাব্য গ্রাহকদের তথ্য-সম্বলিত নোটবই এবং প্রতারণার জন্য ব্যবহৃত কলিং স্ক্রিপ্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অভিযানে কলকাতার বউবাজার থানা এলাকার মালাঙ্গা লেন এবং বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে দু’টি ভুয়ো কল সেন্টারের সন্ধান মেলে। সেখান থেকেই ন’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পরবর্তীতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তা থেকে পাওয়া তথ‍্যের ভিত্তিতে পাটুলি থানার এলাকায় আরও একটি অভিযান চালানো হয়। সেখানকার বৈষ্ণবঘাটা এলাকার ব্লক-টি এলাকার বাসিন্দা সুধীর মাহাতো নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তে জানা গিয়েছে, প্রতারণার অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত ভুয়ো অ‍্যাকাউন্টের ব্যবস্থা করার দায়িত্বে ছিল তাঁর। ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হয়েছে। 

কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) কুণাল আগরওয়াল জানান, এই প্রতারণাচক্র কীভাবে কাজ করত তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত বাকি সদস্যদের চিহ্নিত করতে আমরা ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করছি। তাঁর কথায়, নেপথ্যে আরও বড় নেটওয়ার্ক রয়েছে।


Share