KMC

২০৯ ওয়ার্ড হলে বদলাবে অ্যাসেসি নম্বর, সম্পত্তিকর আদায় নিয়ে চিন্তায় কলকাতা পুরসভা

চলতি অর্থবর্ষে ১ এপ্রিল থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় সম্পত্তিকর আদায় কমেছে ২১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। আগামী অর্থবর্ষে নতুন অ্যাসেসি নম্বর তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কর আদায়ের পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১২

কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের কাজ এগোতেই সম্পত্তিকর আদায় নিয়ে নতুন করে চিন্তা বাড়ছে। ডিলিমিটেশনের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হবে। ফলে একাধিক ওয়ার্ডের ভৌগোলিক সীমানায় পরিবর্তন আসবে। আর তার সঙ্গে বদলাতে হবে বাড়ি ও সম্পত্তির অ্যাসেসি নম্বরও। পুরসভার সম্পত্তিকর বিভাগের আধিকারিকদের একাংশের আশঙ্কা, অ্যাসেসি নম্বর বদলের মতো সময়সাপেক্ষ কাজের মধ্যে কর আদায়ের প্রক্রিয়া কী ভাবে স্বাভাবিক রাখা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নাগরিকদের কাছ থেকে সম্পত্তিকর আদায়ের ক্ষেত্রে অ্যাসেসি নম্বর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ওয়ার্ডের সীমানা বদলের পর নতুন করে অ্যাসেসি নম্বর তৈরির কাজ করতে হবে। এই প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগতে পারে বলেই মনে করছেন পুরকর্তাদের একাংশ।

এরই মধ্যে সম্পত্তিকর আদায়ের বর্তমান পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত মে মাসে রাজ্যে পালাবদল হয়েছে। এর পর কলকাতা পুরসভার তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ভেঙে গিয়েছে

প্রশাসক হিসেবে পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পুরসভা সূত্রের দাবি, গত কয়েক মাসে সম্পত্তিকর আদায়ের গতি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ১ এপ্রিল থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে পরিমাণ সম্পত্তিকর আদায় হয়েছিল, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের একই সময়ে তার তুলনায় আদায় কমেছে ২১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। এই হারে কর আদায় কমতে থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন সম্পত্তিকর বিভাগের আধিকারিকেরা।

পুরসভার এক আধিকারিকের কথায়, “এ বছর সম্পত্তিকর আদায়ের হার রেকর্ড পরিমাণে কমেছে। শেষ কবে এমন কমেছিল, তা মনে করতে আমরাও পারছি না। চলতি অর্থবর্ষ শেষ হতে আর মাস ছয়েক বাকি। এর মধ্যে আদায় না বাড়লে পুরসভার কোষাগার শূন্য হয়ে যাবে।”

কলকাতা পুরসভার আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস সম্পত্তিকর। সেই আয়েই পুরসভার বিপুল কর্মীসংখ্যার বেতন-সহ বিভিন্ন খরচ সামলাতে হয়। পুরসভায় স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার। পাশাপাশি প্রায় ১৩ হাজার অস্থায়ী কর্মী রয়েছেন। স্থায়ী কর্মীদের বেতনের ৮৫ শতাংশ রাজ্য সরকার বহন করলেও বাকি ১৫ শতাংশের দায়িত্ব পুরসভার। অস্থায়ী কর্মীদের বেতনের পুরো খরচই পুরসভাকে বহন করতে হয়।

পুরসভার অর্থ বিভাগের এক আধিকারিকের বক্তব্য, চলতি অর্থবর্ষে সম্পত্তিকর আদায় কমেছে রেকর্ড পরিমাণ। তার উপর ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের পরে প্রতিটি সম্পত্তির নতুন অ্যাসেসি নম্বর তৈরি না হওয়া পর্যন্ত কর আদায়ের পদ্ধতি কী হবে, তা নিয়েও স্পষ্টতা নেই। তাঁর কথায়, “সব মিলিয়ে সম্পত্তিকর আদায়ের প্রক্রিয়ায় ভাটা পড়তে বাধ্য। পুরসভার কর আদায়ের পদ্ধতি নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।”

পুর আধিকারিকদের একাংশের মতে, পুরভোট নির্ধারিত সময়ে হলে ২০২৭ সালের শুরুতেই নতুন পুরবোর্ড গঠিত হতে পারে। তার আগে ডিলিমিটেশনের কাজ শেষ হলে ২০৯টি ওয়ার্ডের আওতায় থাকা প্রতিটি বাড়ি ও সম্পত্তির অ্যাসেসি নম্বর বদলের প্রয়োজন হবে। সেই কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন অ্যাসেসি নম্বরের ভিত্তিতে সম্পত্তিকর নেওয়া হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

এক পুর আধিকারিক বলেন, “ওয়ার্ডের সংখ্যা বেড়ে ২০৯ হলে প্রতিটি বাড়ির অ্যাসেসি নম্বরও বদল করতে হবে। সেই কাজ যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ। ওই সময়ে কিসের ভিত্তিতে পুরসভা নাগরিকদের থেকে সম্পত্তিকর আদায় করবে? এই বিষয়ে আমরাও যথেষ্ট ধন্দে রয়েছি।”

এই বিষয়ে কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। এসএমএস এবং হোয়াটসঅ্যাপ করা হলেও তাঁর তরফে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।


Share