Kolkata Municipal Corporation

ভাঙা রাস্তা, গর্ত আর জমা জলেই নাকাল কলকাতা! পুজোর আগেই বেহাল রাস্তা সারাতে ১৮ কোটি বরাদ্দ কলকাতা পুরসভার

সূত্রের খবর, বেহাল রাস্তাগুলির মেরামতির জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুলিশি রিপোর্টের ভিত্তিতে পুজোর আগেই পুরকমিশনার স্মিতা পান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ও বেহাল রাস্তাগুলি সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন।

কলকাতা পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ ১২:৫১

দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি এবং জমা জলের জেরে কলকাতা ও সংলগ্ন শহরতলির একাধিক রাস্তার বেহাল দশায় নাকাল যাত্রীরা। ভাঙা পিচের রাস্তা, গর্ত এবং রাস্তা খোঁড়ার পর দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় গাড়িচালক থেকে শুরু করে যাত্রীরাও সমস্যায় পড়ছেন। গর্তে চাকা পড়ে অটো ও মোটরবাইক চালকেরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। পুরসভার শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের দাবি, নিচু এলাকাগুলিতে দীর্ঘদিন জল জমে থাকার পাশাপাশি পানীয় জল ও নিকাশি ব্যবস্থার কাজের জন্য রাস্তা খোঁড়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে পুরসভার ঠিকাদাররা সময়মতো সংস্কার করেননি। ফলে একের পর এক খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি বদলাতে কলকাতা পুরসভা উদ্যোগী হয়েছে। সূত্রের খবর, বেহাল রাস্তাগুলির মেরামতির জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পুলিশি রিপোর্টের ভিত্তিতে পুজোর আগেই পুরকমিশনার স্মিতা পান্ডে গুরুত্বপূর্ণ ও বেহাল রাস্তাগুলি সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছেন।

কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে মঙ্গলবার জানা গিয়েছে, ভারী বৃষ্টির জেরে দুপুর পর্যন্ত মধ্য কলকাতার একাধিক নিচু এলাকায় জল জমে থাকায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হয়। স্ট্র্যান্ড রোড, ঠনঠনিয়া কালীবাড়ি, এমজি রোড এবং আমহার্স্ট স্ট্রিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় জল জমে পথচারীদেরও দুর্ভোগে পড়তে হয়। পুলিশের দাবি, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি গঙ্গায় জোয়ারের কারণে জল নামতে কিছুটা সময় লাগলেও পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। তবে কলকাতার বেহালা, ঠাকুরপুকুর, যাদবপুর, বাগুইআটি, রাজারহাটের পাশাপাশি ব্যারাকপুর, মধ্যমগ্রাম, নিউ বারাকপুর, বারুইপুর এবং সোনারপুরের একাধিক নিচু এলাকাতেও জল জমে থাকার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে জল জমে থাকলেও তা নিষ্কাশনে প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, আলিপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ফের ঘূর্ণাবর্তের জেরে আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে। কলকাতাতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। বুধবার দুপুরের পর থেকেই শহর ও শহরতলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়াও বইতে পারে। ফলে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার, পর পর দু’দিন কলকাতায় কয়েক দফায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।


Share