Election Commission

নভেম্বরে নয়, কলকাতা-হাওড়া পুরভোট কি ডিসেম্বরে? নির্ঘণ্ট নিয়ে এখনও নীরব রাজ্য, নতুন ভোটার তালিকার অপেক্ষায় নির্বাচন কমিশন

কমিশন সূত্রে খবর, ভোট নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও নির্দিষ্ট কোনও সূচি জানানো হয়নি। ফলে নভেম্বরের বদলে এ বার ডিসেম্বরকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কমিশন।

কলকাতা পুরসভা ও হাওড়া পুরসভা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৭

কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোট নভেম্বরে করানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। সেই মতো ভোটের নির্ঘণ্ট অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে প্রকাশের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু মাসের শেষ প্রান্তে এসেও ভোটের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। কমিশন সূত্রে খবর, ভোট নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও নির্দিষ্ট কোনও সূচি জানানো হয়নি। ফলে নভেম্বরের বদলে এ বার ডিসেম্বরকে সামনে রেখেই প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে কমিশন।

প্রথমে ঠিক ছিল, অক্টোবরের শেষেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে। নভেম্বরে ভোটগ্রহণ এবং ডিসেম্বরের শুরুতে গণনা হওয়ার কথা ছিল। সেই পরিকল্পনা মেনেই প্রস্তুতি চলছিল। পরে রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক করে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কিন্তু অক্টোবরের শেষ সপ্তাহেও ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। কমিশনের এক আধিকারিক বুধবার জানান, আইন অনুযায়ী, এই ধরনের নির্বাচনের নির্ঘণ্ট নিয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয় রাজ্য সরকার। কমিশনের বক্তব্য, ভোটের দিনক্ষণ স্থির করার আগে তাদের সম্মতি প্রয়োজন। ওই আধিকারিকের কথায়, “ভোট নিয়ে এমন কোনও প্রস্তাব এলে আমরা সম্মতি জানাব। প্রস্তুতি সেরে রাখা হয়েছে।” তবে ঠিক কী কারণে নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা যাচ্ছে না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানাতে চায়নি কমিশন।

এদিকে, কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার দাবিতে বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হন বিরোধী দলের প্রতিনিধিরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন নাগরিক সমাজের কয়েক জন সদস্যও। কংগ্রেস নেতা প্রসেনজিৎ বসুর দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের নাম তালিকায় ফেরানোর জন্য কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে। তাঁর কথায়, কলকাতা ও হাওড়ায় প্রায় ৬০-৭০ হাজার ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বলে তাঁদের হিসাব। বাদ পড়া ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা করে জানুয়ারির আগে নির্বাচন না করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

একই দাবি তুলেছে সিপিএমও। দলের নেতা কল্লোল মজুমদার বলেন, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য তাঁরা নির্বাচন পিছোনোর দাবি জানাচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য, ট্রাইবুনালে ১২ বছর ধরে ঝুলে থাকা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি না হলে সংশ্লিষ্ট মানুষদের বছরের পর বছর ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা যায় না। নিষ্পত্তি সম্ভব না হলে বাদ পড়া ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকার ভিত্তিতেই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। পরে আরও একটি তালিকা প্রকাশিত হয়। রাজ্য নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ নভেম্বর নতুন ভোটার তালিকা তাদের হাতে পৌঁছনোর কথা। ফলে ডিসেম্বরে নির্বাচন হলে সেই তালিকা ব্যবহার করা হতে পারে। এখন রাজ্য সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কমিশন।


Share