JP Nadda on AIIMS

কল্যাণী এইমস-এ কেন দিল্লির মতো পরিষেবা নেই? ৯-১০ বছরের সময়সীমা জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাড্ডা

নতুন AIIMS-গুলিতে দিল্লির মতো উন্নত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তুলতে ৯-১০ বছর সময় লাগে, জানালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।

এইমস কল‍্যাণী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৪

দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়ন থেকে শুরু করে চিকিৎসা শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যবিমা এবং সস্তায় ওষুধের ব্যবস্থা-একাধিক বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জেপি নাড্ডা। নয়ডা ফিল্ম সিটিতে ‘ইন্ডিয়া টুডে’-র ‘HealthWealth Summit 2026’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি জানান, দেশের ১৪০ কোটি মানুষকে সুস্থ রাখাই উন্নত ভারত গড়ার অন্যতম শর্ত। একইসঙ্গে নতুন AIIMS-গুলিতে দিল্লির মতো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা গড়ে তুলতে সময় লাগার বিষয়টিও ব্যাখ্যা করেন তিনি।

কল্যাণী-সহ দেশের নতুন AIIMS-গুলিতে দিল্লির মতো উন্নত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা পরিষেবা কেন এখনও সর্বত্র পাওয়া যাচ্ছে না, সেই প্রশ্নে নাড্ডা জানান, একটি প্রতিষ্ঠানে দক্ষ চিকিৎসক, শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞ পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় ৯-১০ বছর সময় লাগে। নতুন AIIMS-গুলি এখনও সেই পরিবর্তনশীল পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। শিশুদের ককলিয়ার ইমপ্লান্ট অস্ত্রোপচারের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষার প্রসঙ্গেও এই সময়সীমার কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে ব্যয় বাড়াতে কেন্দ্রের কোনও দ্বিধা নেই বলেও জানান মন্ত্রী।

নাড্ডার দাবি, দেশে AIIMS-এর সংখ্যা এক থেকে বেড়ে ২৩ হয়েছে। মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৩৮৭ থেকে বেড়ে হয়েছে ১,০৬৩। চিকিৎসকের ঘাটতি মেটাতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে আসন বাড়ানোর পাশাপাশি বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে কেন্দ্র।

তিনি আরও জানান, আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দিরের মাধ্যমে ৩০ বছরের বেশি বয়সি ৪৪ কোটি মানুষের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের স্ক্রিনিং হয়েছে। ‘U-Win’ পোর্টালে মা ও শিশুদের টিকাকরণ ডিজিটাল করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হারও ৭০-৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯০ শতাংশ হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে ৬১ কোটি মানুষ পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষার আওতায় রয়েছেন। ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের জন্যও আর্থিক অবস্থা বা জাতি নির্বিশেষে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিমার সুবিধার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

নাড্ডার দাবি, সাধারণ মানুষের চিকিৎসায় নিজস্ব খরচ ৬৩ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ৪৩-৪৪ শতাংশ হয়েছে। জন ঔষধি কেন্দ্র ও ‘অমৃত’ ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধ এবং ইমপ্লান্টে ছাড় পাওয়ায় বহু মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। ‘ল্যানসেট’-এর রিপোর্টের উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগী রোগ নির্ণয়ের এক মাসের মধ্যে চিকিৎসা শুরু করেন।

বক্তব্যের শেষে তরুণ প্রজন্মকে শরীরের যত্ন নেওয়া, স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শরীরের অপব্যবহার না করার পরামর্শ দেন নাড্ডা। তাঁর বক্তব্য, অসুস্থতা প্রতিরোধে সচেতন জীবনযাপন জরুরি।


Share