KMC Tax

২০১৬ থেকে বকেয়া ৮৩ কোটি! নিজেদের সম্পত্তির করই আদায় করতে পারেনি কলকাতা পুরসভা, প্রশ্ন ক্যাগের

কলকাতা পুরসভার সদর দফতর ও বিভিন্ন বরো অফিস-সহ নিজস্ব একাধিক সম্পত্তি থেকেই প্রায় ৮৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া।২০১৬ সাল থেকে এই কর আদায় না হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ক্যাগ। ইতিমধ্যেই পুর কমিশনারের কাছে জমা পড়েছে ক্যাগের রিপোর্ট।

কলকাতা পুরসভা
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৩০

সম্পত্তি কর আদায় নিয়ে কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল ক্যাগ। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, কলকাতা পুরসভার সদর দফতর এবং বিভিন্ন বরো অফিস-সহ পুরসভার নিজস্ব একাধিক সম্পত্তি থেকেই প্রায় ৮৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা সম্পত্তি কর বকেয়া রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে এই কর বাকি পড়ে রয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে। 

কেন দীর্ঘদিন ধরে ওই বিপুল পরিমাণ কর আদায় করা হয়নি, তা জানতে চেয়েছে ক্যাগ। বকেয়া কর আদায়ের জন্য পুরসভার তরফে কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছিল, সেই বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে।

সম্পত্তি কর আদায়ের ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভা এর আগে একাধিক বার ওয়েভার স্কিম চালু করেছে। শোভন চট্টোপাধ্যায়ের মেয়র থাকাকালীন যেমন এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তেমনই ফিরহাদ হাকিমের মেয়র থাকাকালীনও ওয়েভার স্কিম চালু করা হয়। বকেয়া করের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ছাড় দিয়ে ওই সব প্রকল্পের মাধ্যমে পুরসভা অর্থ আদায় করেছে। কিন্তু সেই পুরসভার নিজস্ব সম্পত্তি থেকেই বছরের পর বছর ধরে এত টাকা কর বকেয়া থাকায় প্রশ্ন উঠেছে। ক্যাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরকারি সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য কর আদায়ের বিষয়েও পুরসভার তরফে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

পুরসভার একাধিক প্রকল্প আর্থিক কারণে আটকে রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের জন্যও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরসভার নিজের সম্পত্তি থেকেই ৮৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা কর বকেয়া থাকার বিষয়টি সামনে আসায় প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

ইতিমধ্যেই পুর কমিশনারের কাছে ক্যাগের রিপোর্ট জমা পড়েছে। কোন কোন সম্পত্তি থেকে কত টাকা কর বকেয়া রয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাবও রিপোর্টে দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে ওই কর আদায়ের জন্য কেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হয়নি, সেই বিষয়েও পুর প্রশাসনের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।

এদিকে, এই ইস্যুতে কলকাতা পুরসভার শাসকদলকে নিশানা করেছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, ‘‘সিপিএমের আমল থেকেই কর্পোরেশনকে চোরপোরেশন বলা হত। আর চোরকে রঘু ডাকাতে পরিণত করেছে এই ববি হাকিমরা।’’ তাঁর দাবি, পুরসভার সম্পত্তি করের বকেয়া ৮৩ কোটির থেকেও বেশি হতে পারে। ক্যাগের রিপোর্টে বকেয়া করের পুরো চিত্র উঠে এসেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।


Share