Sujit Basu

ফাইল নিতে বিচারপতির চেম্বারে যান প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনজীবী! এরপরই শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ

ঘটনাটি তিনি হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে জানিয়েছেন বলেও জানান। এর পরেই সুজিতের জামিনের মামলা থেকে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।

সুজিত বসু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০২:৪২

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর জামিনের মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ালেন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। সোমবারই ওই মামলার শুনানি শেষ হয়েছিল। বিচারপতি অবশ্য রায়দান অবশ্য স্থগিত রেখেছিলেন।

মঙ্গলবার বিচারপতি জানান, সুজিতের এক আইনজীবী তাঁর চেম্বারে গিয়েছিলেন। সেই সময় বিচারপতি ঘোষ চেম্বারে ছিলেন না। অভিযোগ, ওই আইনজীবী বিচারপতির ব্যক্তিগত সচিবের কাছে মামলার ফাইল চান। বিষয়টিকে ‘খুবই দুঃখজনক’ বলে বিচারপতি মন্তব্য করেন। ঘটনাটি তিনি হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীকে জানিয়েছেন বলেও জানান। এর পরেই সুজিতের জামিনের মামলা থেকে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।

নিয়ম অনুযায়ী, মামলাটি বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে রয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি অথবা পরবর্তী প্রধান বিচারপতিই ঠিক করবেন, কোন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হবে।

উল্লেখ্য, গত ১১ মে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সুজিতকে গ্রেফতার করেছিল। পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্তকারীদের অভিযোগ, সুজিত দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করেছিলেন। ইডি সূত্রে দাবি, সেই তালিকায় প্রায় ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম ছিল। তদন্তকারীদের অনুমান, দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়েছে। সেই সূত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারির আগে ইডি সুজিতকে একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ভোটের আগে তাঁকে কয়েক দফায় তলব করা হলেও, সে সময় প্রচারের কাজে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়েছিলেন সুজিত। ভোটপর্ব মিটলে গত ১ মে তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দফতরে হাজিরা দেন। কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর সে দিন তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ১১ মে ফের ইডির দফতরে হাজির হলে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সেদিনই তাঁকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা গ্রেফতার করে।


Share