Surendranath College

‘দাদার পছন্দে’ প্রথম বর্ষের ছাত্রীরা, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ফাঁকা ঘরে বাবা-ছেলের উপদ্রব, এখনও কাটছে না ভয়

নিরিহ ছাত্রীদের একাংশের জানাচ্ছে, “পালাবদল হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তাঁরা কলেজের দিকে ভিড়ছে না। এখনও সম্পূর্ণ ভাবে স্থিতিশীল হয়নি। তাই আমারা ভয়ে রয়েছি।”

সুরেন্দ্রনাথ কলেজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১০:১২

সিপিএম জমানায় নব‍্য মহিলা কর্মীদের ‘ফাঁকা ফ্ল্যাটে লেনিন বোঝানোর’ অভিযোগ উঠেছিল। এ বার সেই মডেলের মতোই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের চারতলার ফাঁকা ঘরগুলিকে ব‍্যবহার হত। ওই কলেজে ‘জঙ্গলরাজ’ নিয়ে এমনই অভিযোগ সামনে আসছে। কলেজের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এবং বহিরাগতদের আনাগোনা লেগেই থাকত। ‘দাদার পছন্দ’ হলেই চারতলার ফাঁকা ঘরে নিয়ে যাওয়া হত। বাবা-ছেলের নিশানায় প্রথমবর্ষের নিরিহ ছাত্রীরা নিশানা করা হতো।

ওই কলেজের চারতলায় ঘর রয়েছে। কিন্তু, সেখানে শিক্ষক–শিক্ষিকারা ক্লাস নিতেন না। ফলে ওই ফাঁকা ঘরগুলি কলেজের তৃণমূলের মাতুব্বর এবং বহিরাগত দের আখড়া হয়ে উঠেছিল। বাইরে থেকে কোনও প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা এলে ডাক পড়ত আগে থেকে ‘টার্গেট’ করা ছাত্রীদের। তাঁরা সেখানে পৌঁছলেই ভিতর থেকে ঘর লক করে দেওয়া হতো। না যেতে চাইলে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো হত বলেও কোনও কোনও ছাত্রী অভিযোগ করছেন।

অভিযোগ, ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর কর্মকাণ্ড হলেও, কলেজ পরিচালন সমিতি সে বিষয়ে মাথা ঘামাতেন না। মাথা ঘামাতেন না কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। কলেজের প্রাক্তনী এবং বহিরাগতরা প্রথমবর্ষের ছাত্রীদের নিশানা করতেন। এদের মধ্যে রাতুল ঘোষ, শুভজিৎ বর্মণ, শুভজিৎ চক্রবর্তী সুকান্ত বাহাদুর-সহ একাধিক ওই কলেজের তৃণমূলের মাতুব্বরদের নাম উঠে আসছে। তাঁদের ওপরেও কানকাটা দেবু ওরফে দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছিল। তাঁরা নানা অজুহাতে ছাত্রীদের সঙ্গে আলাপ জমাতেন। এর পরেই নেতা–নেত্রীদের নাম করে ভয় দেখাত। কলেজে শান্তিতে পড়াশোনা করতে হলে দেবা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আনুগত্য কতটা প্রয়োজন তা-ই তাঁরা বোঝাত। দাদার যদি ওই ছাত্রীদের পছন্দ হয় তাহলে চারতলার ফাঁকা ঘরে আসতে বাধ্য করা হতো বলেও অভিযোগ। সেখানেই নিরিহ ছাত্রীদের ঘনিষ্ঠ হত তাঁরা।

চারতলার ওই ঘর বা যেখানে বেডরুম মিলেছে, সেখানে কারোর যাওয়ার অনুমতি ছিল না। তবে স্নাতকস্তরের এক ছাত্রীর বক্তব্য, “আমি ও আমার এক বান্ধবী একদিন চারতলায় গিয়ে দেখি ঘরের দরজা-জানলা সব বন্ধ রয়েছে। প্রথমে ভেবেছিলাম কেউ নেই। কিন্তু, দরজায় ধাক্কা দিতে গিয়ে বুঝে যাই ভিতরে অনেকে রয়েছেন।” একই সুর অন্য এক ছাত্রীর গলাতেও। তিনি বলেন, “প্রথমবর্ষের ছাত্রীদের নিশানা করা হত। নানা ছুতোয় তাঁদের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে কুকর্ম করা হতো। এই তথ্য অনেকেরই জানা। কিন্তু কারও মুখ খোলার ক্ষমতা ছিল না।”

এ বিষয়ে কেউ কেউ প্রতিবাদও করেছিলেন বলে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পড়ুয়াদের একাংশ জানাচ্ছেন। অভিযোগ, সেই সব ছাত্রীদের হুমকি দেওয়া হত। মুখ খুললেই ছবি ভাইরাল করে দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হত। তাই সম্মানহানির ভয়ে আর কেউ মুখ খুলত না। পরে বাপ-ছেলের ডাকা  সালিশি সভায় তা মিটমাট করে দেওয়া হত।


যদিও এই বিষয় নিয়ে এখনও মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের হয়নি। দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ছেলে শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় পলাতক। তাঁদের খোঁজে পুলিশ চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রের খবর, কিছু কিছু বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তবে নিরিহ ছাত্রীদের একাংশের জানাচ্ছে, “পালাবদল হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই তাঁরা কলেজের দিকে ভিড়ছে না। এখনও সম্পূর্ণ ভাবে স্থিতিশীল হয়নি। তাই আমারা ভয়ে রয়েছি।”


Share