Job Fraud Arrest

বন দফতরে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ, ঝাড়গ্রামে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো

বন দফতরে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতো, তদন্তে নেমেছে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশ।

ধৃতের নাম অজিত মাহাতো।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০২:২৭

বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতা অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝাড়গ্রামে নিজের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। চাকরির প্রতিশ্রুতি, টাকা ফেরত না দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম শহরের বাছুরডোবা এলাকার বাসিন্দা ২৪ বছর বয়সি সজল দাস বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি জানান, বন দফতরে স্থায়ী সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অজিত মাহাতো। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে চার দফায় মোট ১০ লক্ষ টাকা দেন তিনি।

কিন্তু অভিযোগকারীর দাবি, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরির কোনও ব্যবস্থা করেননি অজিত। এমনকি, টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি। উল্টে টাকা ফেরত চাইতে গেলে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, তাঁর কাছে আরও ২ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন ওই যুবক।

এই অভিযোগের ভিত্তিতে অজিত মাহাতোর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাঁকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে গ্রেফতারির ঘটনাকে ঘিরে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন অজিত। তাঁর দাবি, শাবল দিয়ে বাড়ির দরজা ভেঙে পুলিশ ভিতরে ঢোকে। গ্রেফতারির সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভও করেন তিনি। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলেও দাবি করেছেন এই তৃণমূল নেতা।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে গোপীবল্লভপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন অজিত মাহাতো। বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর কাছে পরাজিত হন তিনি।

ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের অভিযোগেই এই গ্রেফতারি। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ঝাড়গ্রামের বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ, বন দফতরে চাকরি দেওয়ার নামে বহু টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তদন্ত করবে তাঁদের সরকার এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি মেনে পদক্ষেপ করা হবে। তবে অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।


Share