Demographic Change

জনবিন‍্যস পরিবর্তন নিয়ে কয়েকটি জেলা থেকে অনিয়মিত ভাবে আসছে রিপোর্ট! বিদেশি নাগরিকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা নিয়ে কত? জানতে চায় নবান্ন

অমিত শাহ মনে করেন, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে গোটা দেশ সুরক্ষিত থাকবে। ক্ষমতায় আসার পরে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন‍্য জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

নবান্ন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪০

রাজ‍্যের সীমান্তবর্তী জেলায় জনবিন‍্যাসের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। তা কী হারে পরিবর্তিত হচ্ছে তা জানতে চায় নবান্ন। জনবিন‍্যাসের পরিবর্তন নিয়ে কয়েকটি জেলা থেকে নিয়মিত পরিসংখ্যান আসছে না বলে সূত্রের খবর। অন্য দিকে, সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বিদেশি নাগরিক পরিসংখ্যান নিয়েও বেশ কিছু জেলা থেকে রিপোর্ট আসছে না। রাজ‍্য পুলিশের ডিজির নির্দেশে এসটিএফ, আইবি এবং ভবানী ভবন বিষয়টির ওপরে কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে।

রাজ‍্যে পালাবদলের পরে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছে রাজ‍্য সরকার। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি হিসেবে অনুপ্রবেশকারীদের সীমান্তের ওপারে পাঠানোর ডাক দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখেও একই সুর শোনা গিয়েছিল। অমিত শাহ মনে করেন, সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে গোটা দেশ সুরক্ষিত থাকবে। ক্ষমতায় আসার পরে সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন‍্য জমি সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে। কাঁটাতার বসানোর কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

ভবানী ভবন সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রয়েছে। সেখানে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ নতুন কোনও ঘটনা নয়। বেশিরভাগ সীমান্ত লাগোয়া জেলা থেকে তথ্য এলেও জনববিন‍্যস পরিবর্তন সংক্রান্ত রিপোর্ট বসিরহাট পুলিশ জেলা থেকে পাঠানো হয়নি। দক্ষিণ দিনাজপুর থোকেও এই রিপোর্ট আসেনি। তবে বসিরহাটের মতো সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে এমন রিপোর্ট না আসায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভবানী ভবন। ভবানী ভবন মনে করছে, ওই পুলিশ জেলায় জনবিন‍্যাসের পরিবর্তন হয়নি তা মেনে নেওয়া কার্যত অসম্ভব। তাই আবার জেলা পুলিশকে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

ভুয়ো আধার কার্ড, পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য বেশিভাগ জেলা পাঠালেও বারুইপুর পুলিশ পাঠায়নি বলেও জানা গিয়েছে। তাই ভবানী ভবন রেঞ্জের কর্তাকে এই বিষয়ে অবগত করতে চলেছে বলে জানা গিয়েছে।

এ ছাড়াও, বিশেষ করে বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা এ রাজ্যে এসে সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে একাধিক বার জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। কখনও ফোন চুরি, ছিনতাই-সহ একাধিক সংঘটিত অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। সেই সংক্রান্ত তথ্য সব জেলা পাঠালেও বীরভূমের কাছ থেকে মেলেনি। তাই জেলা পুলিশকে আবার তা খোঁজখবর নিতে বলা হয়েছে।

ভবানী ভবন সূত্রের খবর, প্রতি মাসেই এমন রিপোর্ট তৈরি করে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরে পাঠানোর কথা। তার পর তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে পাঠানো হয়। কিন্তু সেই রিপোর্ট এখনও হাতে আসেনি ভবানী ভবনের। তবে কোনও জেলা থেকে পাঠানো হয়নি মানে সেই পুলিশ জেলায় এমন ঘটনা না-ও থাকতে পারে বলেও কর্তারা মনে করছে।


Share