Suvendu Adhikari

‘ফুটপাথ জবরদখল করা অধিকার কারো নেই,’ জনগণের অধিকারের প্রশ্নে স্পষ্ট জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

পালাবদলের পরে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করতে তৎপর হয়েছে সরকার। বুলডোজার দিয়ে দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রথা মেনেই রাস্তা দখল করে ব্যবসাকে বৈধ বলে দাবি করেছে কমিউনিস্টরা।

রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ০৩:৫৪

ফুটপাথের অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ নিয়ে স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ফুটপাত জবরদখল করার অধিকার কারো নেই। তিনি কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা কোনও ব‍্যক্তির স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবেন না। যারা এই মুহূর্তে রাস্তা বা ফুটপাত দখল করে হকারি করছেন, তাঁদের উঠে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি এ-ও জানিয়েছেন, বিজেপি পরিচালিত সরকার মানবিক।

শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছর পূর্তি উদযাপন করা হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, জনগণের ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার অধিকার রয়েছে। সেই ফুটপাত জবরদখল করার অধিকার কারোর নেই। মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধ, সরকারের অনেক খালি জমি রয়েছে। সাধারণ মানুষের সেই সমস্ত জমির কোনও প্রয়োজন নেই। তাঁরা সেখানে চলে যেতে পারেন। ফুটপাথে যদি বৈধ বা অবৈধ যাঁরা বসে আছেন সরকার তাঁদের মানবিক ভাবেই দেখবে।

তৃণমূল জমানায় কলকাতার রাস্তায় হকারদের দাপট দেখেছে পথচলতি মানুষজন। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব এবং পুলিশ প্রশাসনের যোগসাজশে সরকারি রাস্তায় জবরদখল করে রমরমিয়ে ব‍্যবসা চলেছিল। কলকাতা পুরসভাকে দেওয়া হকার সংগ্রাম কমিটির একটি পরিসংখ্যান অনুযায়ী শহরের প্রায় ৬০ হাজারের বেশি হকার রয়েছে। তাঁরা ফুটপাত এবং রাস্তার ওপরে বসে ব‍্যবসা করে। গত বছর পুজোর আগে রাস্তা দখল করে বসা অবৈধ হকারদের লাইসেন্স দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। শেষ পর্যন্ত সেই কাজও হয়নি। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে হকারদের মালপত্র নিয়ে চলে যায়। পরের দিন আবার একই জায়গায় বসে পড়ে। রাস্তা বা ফুটপাতের ওপরে ডালা লাগিয়ে বসার জন‍্য তৃণমূলের নেতাদের পকেটে টাকা গিয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

পালাবদলের পরে রাজ্যের সমস্ত জায়গায় অবৈধ হকারদের উচ্ছেদ করতে তৎপর হয়েছে সরকার। বুলডোজার দিয়ে দোকান ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রথা মেনেই রাস্তা দখল করে ব্যবসাকে বৈধ বলে দাবি করেছে কমিউনিস্টরা। গত কয়েক দিন আগেই যাদবপুর স্টেশনের বাইরে হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ওই দিন রাতে অবৈধ হকারদের এমন দাবিকে বৈধতা দিতে হবে বলে প্রতিবাদে নামে বিভিন্ন কমিউনিস্ট সংগঠন।

হকার উচ্ছেদ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মনে করেন, কলকাতার চওড়া রাস্তা বা ফুটপাতে কাউকে বসতে দেওয়া তাঁদের ‘অধিকার’-এর মধ্যে পড়ে না। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানান, তাঁকে জনগণ ভোট দিয়ে জিতিয়েছে। বিজেপি এবং দলের বিধায়কেরা তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী বানিয়েছেন। তিনি জনগণের কাছেই দায়বদ্ধ। সেখানে জনগণের স্বার্থ জড়িত রয়েছে। তিনি বলেন, “আমার কাছে জনগণের স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে। মুষ্টিমেয় কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ আমার কাছে অগ্রাধিকার পাবে না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “যেখানে উদ্বৃত্ত জায়গা রয়েছে, সেখানে আপারা সরে যান। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর আপনাদের জন্য সরকারি প্রকল্প নিয়ে আসবে। কেন্দ্রীয় সরকারের শ্রম দফতরের প্রকল্প রয়েছে। তার সুবিধা আপনারা পাবেন।” 

ধর্মাতলার নিউ মার্কেট, খিদিরপুর এবং মেটিয়াবুরুজে রাস্তা দখল করে ‘হকাররাজ’ নিয়েও একেবারে স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হকারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, “আপনি নিউ মার্কেটের গোটা রাস্তাটাই দখল করে নেবেন। সেখান দিয়ে মোটরবাইকও যেতে পারবে না। রাজাবাজার রাস্তা বেহাত হয়ে যাবে। খিদিরপুর, মেটিয়াবুরুজে যা ইচ্ছে তা-ই করবেন।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এই কাজকে বৈধতা দেওয়া জন‍্য তাঁকে রাজ‍্যবাসী আমাকে মুখ্যমন্ত্রী করেনি।


Share