Hamim Mondal Case

নিজস্ব সার্ভার ব‍্যবহার করেই পাকিস্তানি হ‍্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ! হামিদ, অর্পিতার ফোন বিশ্লেষণ করে জানতে পেরেছে এসটিএফ

গত ২০২৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ধৃত পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গিদের এই ‘এলিমেন্ট-X’ ব‍্যবহার করে হ‍্যান্ডলারদের যোগাযোগ রাখার অভিযোগ ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সুপারিশে এই অ‍্যাপ কেন্দ্রীয় তথ‍্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এই অ‍্যাপটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

ধৃত ইসলামিক জঙ্গি হামিম মন্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ ১০:২৬

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে হত‍্যার ছক এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগে ইসলামিক জঙ্গি হামিম মন্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতার করেছে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ। তাদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোট তিনটি ফোন এবং ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে বলে এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে। 

রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ সূত্রের খবর, পাকিস্তানের আইএসআই মদতপুষ্ঠ আবির জাট, উজেহের, শাহজাহাদ ভাট্টির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে ছিল এই ইসলামিক জঙ্গি হামিম মন্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকার। তাদের ইউটিউব চ্যানেল ফলো করত। সেখানে কমেন্ট, লাইক পাকিস্তান থেকে বিশ্লেষণ করা হত। তার পরেই স্লিপার সেল বেছে নিত। তারই অংশ ছিল এই হামিম। 

জানা গিয়েছে, হামিমেরা প্রথমে মেটার হোয়াটসঅ‍্যাপ ব‍্যবহার করলেও তা পরে বন্ধ করে দেয়। তার বদলে ‘এলিমেন্ট-X’ অ‍্যাপ ব‍্যবহার করা শুরু করে। এই অ‍্যাপ ব‍্যবহারকারীরা নিজেই সার্ভার তৈরি করে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। ম‍্যাট্রিক্স কমিউনিকেশন প্রোটোকলের ভিত্তিতে এই অ‍্যাপ কাজ করে। অর্থাৎ একই জায়গা থেকে একই সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করার এর কোনও উপায় নেই। হোয়াটসঅ‍্যাপ, টেলিগ্রামের মতো অ‍্যাপ বন্ধ করতে গেলে কেন্দ্রীয় ভাবে তা বাস্তবায়ন করার উপায় রয়েছে। এই অ‍্যাপের ক্ষেত্রে তা নেই। 

এসটিএফ সূত্রের খবর, হামিমের এই ম‍্যাট্রিক্স সার্ভারের আইডি ছিল ‘unknowngunman333:matrix.com’ । বাকি যে পাকিস্তানের হ‍্যান্ডলারদের আইডিতেও ‘৩৩৩’ রয়েছে। সেই আইডি দিয়েই ‘ক্রস বর্ডার’ নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেখানেই এদেরকে টার্গেট বেধে দেওয়া হত। কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে তা বলে দেওয়া হত। সেখান থেকে কিছু চ‍্যাট মুছে দেওয়া হলেও তা উদ্ধার করার চেষ্টা করছে তদন্তকারীরা। পড়ে থাকা চ‍্যাটের মধ্যেই মুখ‍্যমন্ত্রীর গতিবিধি সম্পর্কিত তথ্য পুলিশ পেয়েছে। এ ছাড়াও, ইসলামিক জঙ্গিদের নিশানায় আইএএস অফিসার, বিজেপির নেতা এবং আরএসএসের নেতাও ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

গত ২০২৩ সালে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ধৃত পাকিস্তানের ইসলামিক জঙ্গিদের এই ‘এলিমেন্ট-X’ ব‍্যবহার করে হ‍্যান্ডলারদের যোগাযোগ রাখার অভিযোগ ওঠে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সুপারিশে এই অ‍্যাপ কেন্দ্রীয় তথ‍্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক এই অ‍্যাপটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। যদিও এই অ‍্যাপ বর্তমানে প্লে-স্টোর এবং অ‍্যাপ স্টোরে পাওয়া যাচ্ছে। যা নিয়ে তদন্তকারীদের আরও চিন্তা বেড়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। 

পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, এই চ‍্যাটের কথোপকথনই এই তদন্তকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার। এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেককেই চিহ্নিত করা হয়েছে বলে এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে নাশকতার চালানোর জন‍্য পুলিশের উর্দি জোগাড় করতেও পাকিস্তানি হ‍্যান্ডলারেরা হামিমকে নির্দেশ দিয়েছিল।

এসটিএফের আইজি গৌরব শর্মা জানিয়েছিলেন, ধৃত অর্পিতা সরকারের সঙ্গে হামিমের চার বছর ধরে সম্পর্ক ছিল। ঝাড়খন্ডের বাসিন্দা অর্পিতা মাঝে মধ্যে এই রাজ‍্যে আসত। এখানে এসে বেশিরভাগ সময় হামিম মন্ডলের সঙ্গেই কাটাত। এই অর্পিতার সঙ্গেও পাকিস্তানের হ‍্যান্ডলারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার মোবাইল ফোন থেকেও এই প্রমাণ মিলেছে বলেও জানান তিনি। এই অর্পিতার কাজ ছিল পাকিস্তানের হ‍্যান্ডলারদের বেধে দেওয়া টার্গেটকে হানিট্রাপ করে ফাঁসানো এবং অপহরণ করা। রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের ছেলেকে নিশানা করেছিল। এই কাজ করতে কত টাকা পেয়েছে তা নিয়ে এসটিএফ স্পষ্ট করেনি। আইজি বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত একেবারেই প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।” অন‍্য দিকে, এই পরিকল্পনায় আর কোন ‘হাইপ্রোফাইল টার্গেট’ ছিল তা নিয়েও এসটিএফ আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি। 

হাওড়ার পিলখানা থেকে পূর্ব বর্ধমানের রেনেসাঁয় চলে যায়। হামিম আদতে মন্তেশ্বরের বাসিন্দা। হামিমের স্নাতকে ডিগ্রি রয়েছে। তবে কী বিষয়ে তিনি স্নাতকে ডিগ্রি পেয়েছে তা স্পষ্ট করেননি আইজি গৌরব শর্মা। হামিমের সূত্র ধরেই বাকিদের কাছে পৌঁছোনোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ইসলামিক জঙ্গি হামিম মন্ডল এবং তার বান্ধবী অর্পিতা সরকারের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত হয়েছে। তাদেরকে কলকাতায় এসটিএফের হেফাজতে রাখা হয়েছে। ধৃতদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারী আধিকারিকেরা। 


Share