Calcutta High Court

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা যথেষ্ট নয়, সরকারি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপ নয়, ইসকন-মিড-ডে মিল মামলায় গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হাই কোর্টের

শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও জানায় বেঞ্চ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা এখনও কার্যকর হয়নি, এই মর্মে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ জুলাই ২০২৬ ০৯:৫১

কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল প্রকল্পে ইসকনের মতো ধর্মীয় সংগঠনকে যুক্ত করার প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় আপাতত হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাই কোর্ট। আদালত জানিয়ে দিয়েছে, এ বিষয়ে সরকার আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলে তখন মামলাকারীরা পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন।

এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করে, ইসকনকে মিড-ডে মিল প্রকল্পে যুক্ত করার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি। শুধুমাত্র মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ভিত্তিতে আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই বলেও জানায় বেঞ্চ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা এখনও কার্যকর হয়নি, এই মর্মে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

চলতি অর্থবর্ষের বাজেট পেশের সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত ঘোষণা করেছিলেন, কলকাতা পুর এলাকার স্কুলগুলিতে পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলট প্রজেক্ট) মিড-ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে ইসকনকে। সেই প্রকল্প সফল হলে ধাপে ধাপে রাজ্যের অন্যান্য স্কুলেও মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। এই ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, ইসকনের মতো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের হাতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব গেলে পড়ুয়াদের খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ পড়তে পারে এবং শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশন করা হতে পারে। এতে শিশুদের পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাসের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এই বিতর্কের আবহেই হাই কোর্টে একটি পৃথক ইস্যুতে মামলা দায়ের করেছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র।

বুধবার মামলাটির শুনানিতে আইনজীবী কল্যাণ আদালতে দাবি করেন, এতদিন সরকারি স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিল রান্না ও সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে আসছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘোষণার পর সেই দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়া হলে রাজ্যের হাজার হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর কর্মীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় স্তরে রান্নার ব্যবস্থা এবং সম্প্রদায়ভিত্তিক অংশগ্রহণই মিড-ডে মিল প্রকল্পের অন্যতম মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি, কোনও রকম টেন্ডার প্রক্রিয়া ছাড়া একটি সংস্থার হাতে কাজ তুলে দেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এর জবাবে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎ নাথ মিত্র আদালতকে জানান, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকার কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়নি। তাঁর দাবি, সরকারের কাছে কেবল একটি প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু তা কার্যকর করার কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তাই নিছক সম্ভাবনার ভিত্তিতে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, ভবিষ্যতে যদি সরকার এ সংক্রান্ত কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করে এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে মামলাকারীরা পুনরায় আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। আপাতত মামলার শুনানি অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি রাখা হয়েছে।


Share