Suvendu Adhikari

আগামী ১ অগস্ট থেকে ইসকনের হাতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব, পড়ুয়াদের খাবারে ডিম ফেরানোর সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

বিতর্কের মধ্যেই পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিম দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে তিনি জানান, ইসকন খাবার সরবরাহ করলেও মিড ডে মিলের আওতায় ডিম দেবে রাজ্য সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৯:৩৪

কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব পেয়েছে ইসকন। আগামী ১ অগস্ট থেকে পড়ুয়াদের জন্য নিরামিষ খাবার পরিবেশন শুরু করবে তারা। এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অনেকের প্রশ্ন, শুধু নিরামিষ খাবারে পড়ুয়াদের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ হবে কি না। বিতর্কের মধ্যেই পড়ুয়াদের জন্য আলাদা করে ডিম দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবান্ন থেকে তিনি জানান, ইসকন খাবার সরবরাহ করলেও মিড ডে মিলের আওতায় ডিম দেবে রাজ্য সরকার।

এ দিন বিকেলে নবান্ন থেকে সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত মোট ৮০ হাজার ৩৭৫টি স্কুলের জন্য কম্পোজিট গ্রান্ট বরাদ্দ করেন শুভেন্দু। নেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে স্কুলগুলির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয় মোট ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা। এরপর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মিড ডে মিলে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১ অগস্ট থেকে ইসকন মিড ডে মিল দেবে। তবে প্রোটিনের ঘাটতি পূরণ করতে সেলফ হেলফ গ্রুপের মাধ্যমে আমরা আলাদা করে ডিম দেব।’

২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে কলকাতা পুরসভার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল পরিচালনার দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়েছিলেন অনেকে। তাঁদের অভিযোগ, ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হলে পড়ুয়াদের ধীরে ধীরে নিরামিষ খাবারের অভ্যাসের দিকে ঠেলে দেওয়া হতে পারে।

মিড ডে মিলের মেনু থেকে ডিম স্থায়ীভাবে বাদ পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে চলতি মাসে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের হয়। মামলার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকারের কাছে হলফনামা চেয়ে পাঠিয়েছে আদালত। এই পরিস্থিতির মধ্যেই সরকারি স্তরে আলোচনার পর পড়ুয়াদের খাবারে আলাদা করে ডিম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

একই সঙ্গে রাজ্য জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত হতে চলেছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ‘আমরা জাতীয় শিক্ষা নীতির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর ফলে কেন্দ্রীয় সমস্ত গ্র্যান্ট পাব। সুযোগ সুবিধা মিলবে।’ জাতীয় শিক্ষা নীতি মেনেই স্কুল পরিচালন কমিটি তৈরি হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রযুক্তিগত শিক্ষার উপরেও জোর দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘উচ্চমাধ্যমিকে এআই, মেসিন লার্নিং, ডেটা সায়েন্স পড়ানো হবে।’ পিএমশ্রী স্কুলের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


Share