IPAC Case

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ‍্যাক মামলার শুনানি, ইডির আইনজীবীদের আবেদন মেনে নতুন দিন ধার্য করল শীর্ষ আদালত

সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ‍্যাককান্ডে ইডির মামলায় বিপক্ষের আইনজীবীরা হলফনামা জমা দেয়। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার ইডির কোনও মৌলিক অধিকার নেই। রাজ্য হলফনামা দিয়ে এ-ও দাবি করেছে, যে ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সে ভাবে তল্লাশি চালানো যেতে পারে না।

সুপ্রিম কোর্টে আইপ‍্যাক মামলার শুনানি পিছিয়ে গেল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:১৬

সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল আইপ‍্যাক মামলার শুনানি। মঙ্গলবার বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে শুনানি ছিল। আবার কবে শুনানি হবে, সেই দিনও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গতকাল সোমবার শীর্ষ আদালতে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। এ দিন শুনানির শুরুতেই ইডির তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, রাজ্য সরকারের হলফনামা খতিয়ে দেখার সময় চাওয়া হোক। ইডি-ও পাল্টা হলফনামা জমা দিতে চায় বলে জানান সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান। এর পরেই শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন নিয়ে রাজ‍্যের বক্তব্য জানতে চান বিচারপতি মিশ্র। সব পক্ষের সম্মতির পরেই বিচারপতিরা মামলার শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলাটি পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ‍্যাককান্ডে ইডির মামলায় বিপক্ষের আইনজীবীরা হলফনামা জমা দেয়। রাজ্যের তরফে দাবি করা হয়, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার ইডির কোনও মৌলিক অধিকার নেই। রাজ্য হলফনামা দিয়ে এ-ও দাবি করেছে, যে ভাবে তল্লাশি চালানো হয়েছে, সে ভাবে তল্লাশি চালানো যেতে পারে না। কেন আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি, রাজ্যের তরফে তা নিয়েও প্রশ্নও তোলা হয়েছে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় (সাংবিধানিক প্রতিবিধান সংক্রান্ত মৌলিক অধিকার) অভিযোগ এনেছিল ইডি। রাজ্যের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি হস্তক্ষেপের’ অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হয় তারা। হলফনামায় রাজ্য পাল্টা দাবি করে, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে ইডির অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারার (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার) পরিপন্থী।

এর আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণ করছে, কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কাজে হস্তক্ষেপ করার এক্তিয়ার নেই। কিন্তু যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা সদ্ভাবনামূলক ভাবে কোনও গুরুতর অপরাধের তদন্ত করে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে, দলীয় কার্যকলাপের আড়ালে সুরক্ষা নেওয়ার অজুহাতে সংস্থাগুলিকে তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ থেকে বিরত রাখা যায় কি না বলেও। তাই এটি একটি 'অত্যন্ত গুরুতর বিষয়' যা  আদালতের পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব‍্য করেছেন শীর্ষ আদালতের বিচারপতি।

একই সঙ্গে ৮ জানুয়ারির ঘটনাস্থল এবং তার আশপাশের সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ এবং ডিভিআর সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি আদালত পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের দ্বারা ইডি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি এফআইআর-এর ভিত্তিতে শুরু হওয়া তদন্তের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে। সেই মামলার ভিত্তিতে কলকাতা পুলিশ এবং রাজ‍্য পুলিশ ইডি আধিকারিকের বিরুদ্ধে তদন্ত করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় দেশের শীর্ষ আদালত।


Share