Tram Innovation

ঐতিহ্যের ট্রামে আধুনিকতার ছোঁয়া, অস্ট্রেলিয়া-ফ্রান্সের প্রযুক্তিতে কলকাতার ট্রাম ফেরানোর উদ্যোগ, সমীক্ষায় রাইটস

পরিবহণ দফতরের সূত্রের বক্তব্য, এখন বহু ক্ষেত্রে শুধু ট্রামের বাহ্যিক কাঠামোই টিকে রয়েছে; পরিষেবা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর বড় অংশ আর অবশিষ্ট নেই। এই পরিস্থিতি নিয়ে পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৪:৪০

কলকাতার ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক ট্রাম। এই ট্রাম পরিষেবাকে আধুনিক রূপে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতর অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের অত্যাধুনিক ট্রাম প্রযুক্তি এবং নগর পরিবহণ ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরিষেবার উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের বিভিন্ন রুটে ট্রাম পরিষেবা পুনরায় চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা রাইটসকে সমীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ট্রাম সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য রাইটসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমীক্ষা চালিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সুপারিশ করবে।

কলকাতায় ব্রিটিশ আমল থেকে ট্রাম চললেও হয়নি কোনোও প্রযুক্তিগত উন্নতি। ট্রামকে সময়োপযোগী করে তুলতে প্রযুক্তির উন্নয়ন প্রয়োজন। তাই অস্ট্রেলিয়া এবং ফ্রান্সের দু’টি সংস্থার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে তাদের সঙ্গে সমীক্ষার কাজ করবে রাইটস। প্রশাসনের একাংশের দাবি, বাঙালির আবেগ ও কলকাতার ঐতিহ্যের সঙ্গে ট্রামের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। তবে অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ট্রাম পরিষেবার পরিকাঠামো কার্যত ভেঙে পড়ে। বর্তমান সরকারের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন সময়ে ট্রাম পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও জমি বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরিবহণ দফতরের সূত্রের বক্তব্য, এখন বহু ক্ষেত্রে শুধু ট্রামের বাহ্যিক কাঠামোই টিকে রয়েছে; পরিষেবা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামোর বড় অংশ আর অবশিষ্ট নেই। এই পরিস্থিতি নিয়ে পরিবহণ দফতরের আধিকারিকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংহ।

এ দিকে, ট্রাম পরিষেবাকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যে মন্ত্রীর নির্দেশে সমীক্ষা চালাচ্ছে রাইটস। এই সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হবে, যে সব রুটে ট্রাম পরিষেবা বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেখানে ফের ট্রাম চালু করা কতটা সম্ভব। পাশাপাশি, অস্ট্রেলিয়া ও ফ্রান্সের আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে কীভাবে ট্রাম পরিষেবাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করা যায়, তাও পর্যালোচনা করা হবে।

পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন বলেছেন, “ট্রামের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত পরিবহণ ব্যবস্থা। পরিবহণ দফতর চেষ্টা করছে যাতে ট্রাম চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের উপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা না পড়ে। আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছি।”

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট এবং গঙ্গা-আদিগঙ্গা সংযোগকারী বিশেষ ট্রাম রুট চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ট্রাম পরিষেবাকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে পর্যটন দফতরের সহযোগিতা নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

শুধু কলকাতাতেই নয়, ভবিষ্যতে নিউটাউন ও রাজারহাট এলাকাতেও ট্রাম পরিষেবা চালুর সম্ভাবনা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। ওই অঞ্চলের বর্তমান গণপরিবহণ ব্যবস্থা নিয়ে সরকার পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় বলেই জানা গিয়েছে। পরিবহণ দফতরের একাংশের মতে, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর পরিবহণ হিসেবে ট্রামকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা গেলে একদিকে যেমন কলকাতার ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে শহরের গণপরিবহণ ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে। এখন এই পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে রাইটসের সমীক্ষা রিপোর্টের উপর।


Share