Indranil Sen

ইন্দ্রনীল সেনের কন্যাকে লালবাজারে তলব! পুজোর পাস বিক্রির টাকার ‘ট্রেল’ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় গোয়েন্দারা

সোমবার তাঁকে লালবাজারে তলব করেছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে ইন্দ্রনীলের কন্যারও যোগ থাকতে পারে।

লালবাজার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ০১:২১

দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি দুর্নীতি মামলায় এ বার কলকাতা পুলিশের নজরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কন্যা। সোমবার তাঁকে লালবাজারে তলব করেছেন তদন্তকারীরা। তদন্তকারীদের সন্দেহ, পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে যে আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তাতে ইন্দ্রনীলের কন্যারও যোগ রয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের উপর নজরদারি চালাচ্ছিল পুলিশ। বিপুল পরিমাণ টাকা তাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে। সেই সূত্র ধরেই এ বার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে ইতিমধ্যেই ইন্দ্রনীল সেনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। বর্তমানে তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। একই মামলার এফআইআরে নাম রয়েছে তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনেরও। যদিও কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আগাম জামিন পেয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল আদালত। এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ বার তদন্তের পরিধিতে তাঁর কন্যার নাম উঠে আসায় মামলায় নতুন মোড় তৈরি হল।


দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি ও প্রিভিউ শো আয়োজনের নামে কোটি কোটি টাকা আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে এবার কলকাতা পুলিশের নজরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের কন্যাও। অভিযোগ, ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি তাঁদের কন্যার অ্যাকাউন্টেও টাকার লেনদেন হয়েছে। সেই লেনদেনের উৎস ও উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখতে সোমবার তাঁকে লালবাজারে তলব করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নের উত্তর পেতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।

পুলিশের অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি এবং প্রিভিউ শো আয়োজন করে টাকা তুলতেন ইন্দ্রনীলেরা। ওই সংস্থার পদাধিকারী ছিলেন তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার পরই সংস্থাটি তৈরি হয়েছিল। অভিযোগ, প্রচারের ক্ষেত্রে বেআইনিভাবে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে পুজোর পাস বিক্রি করা হত। এমনও দাবি করা হত যে, এই উদ্যোগে সরাসরি ইউনেস্কোর অনুমোদন রয়েছে। যদিও বাস্তবে এমন কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি ইউনেস্কো করেনি বলেই অভিযোগ।

এই ঘটনায় বৌবাজার থানায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই ইন্দ্রনীল ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। ইতিমধ্যেই একাধিকবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। গত ২৮ অক্টোবর সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিয়ে বেরোনোর পরই তাঁকে গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ। তার আগে কসবার বাড়ি, সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

অন্য দিকে, কলকাতা হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। তবে শীর্ষ আদালতে শুনানির আগেই তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকে আবেদন প্রত্যাহার করে নেন চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়ক। একই সঙ্গে তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। এবার এই মামলার তদন্তে তাঁর কন্যাকে তলব করায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।


Share