Surendranath College

সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে পোড়া টাকা উদ্ধার, তৃণমূলের ভর্তি দুর্নীতির টাকা বলে দাবি এবিভিপির

উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট ছিল। প্রায় সমস্ত টাকাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এ দিন ঘর পরিষ্কার করার কাজ করছিল। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের দিবা এবং সান্ধ‍্য বিভাগের প্রিন্সিপালেরা।

সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে উদ্ধার নষ্ট হয়ে যাওয়া টাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০২ জুন ২০২৬ ০৮:২৪

শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে বিপুল পরিমাণ পোড়া টাকা উদ্ধার হয়েছে। কলেজের পেছনে তৃণমূলের ইউনিয়ন রুম থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার হয়। ওই ব্যাগেই টাকা রাখা ছিল। তবে তা পোড়া বা পোকায় কেটে দিয়েছে। ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট ছিল। টাকার বিনিময়ের ভর্তি করা হয়েছে। সেই টাকাই রাখা ছিল বলে অভিযোগ করছে অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পরিষদ।

পুলিশ সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে সাড়ে পাঁচটার সময় পুলিশ খবর পায় যে শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ব‍্যাগভর্তি টাকা পাওয়া গিয়েছে। মুচিপাড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টাকা-সহ দুটি ব‍্যাগ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে গিয়েছে।

উদ্ধার হওয়া টাকার মধ্যে ১০০ এবং ৫০০ টাকার নোট ছিল। প্রায় সমস্ত টাকাই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এ দিন ঘর পরিষ্কার করার কাজ করছিল। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজের দিবা এবং সান্ধ‍্য বিভাগের প্রিন্সিপালেরা। কলকাতা পুরসভার কর্মীরা ঘরটি পরিষ্কার করছিলেন। ঘড়টি কলেজের পেছেনে অবস্থিত। ওই ঘড়ে তৃণমূলের ইউনিয়ন রুম ছিল। পরিস্কার করার সময় তা উদ্ধার করা হয়েছে।

এলাকার তৃণমূল নেতা দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় এই কলেজ দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। কলেজকর্মীদের একাংশের অভিযোগ, বকলমে তাঁর ছেলে শিবাশিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ওরফে বটু চালাতেন। তিনি কলকাতা হাই কোর্টের তৃণমূলপন্থী আইনজীবীও। এমনকী, তৃণমূল নেতার ছেলে শিবাশিষ ওই কলেজের আইন বিভাগের শিক্ষকতার নামে সরকারি বেতন নিতেন। পাশাপাশি রাতুল ঘোষ, শুভজিৎ চক্রবর্তী এবং শুভজিৎ বর্মণ বলে তিন তৃণমূল কর্মীর নামেও অভিযোগ করছেন। শুভজিৎ চক্রবর্তী বেলেঘাটার বাসিন্দা। শুভজিৎ বর্মণ হাওড়ার বাসিন্দা। কলেজের ছাত্রদের একাংশের অভিযোগ, রাতুল ঘোষ, শুভজিৎ চক্রবর্তী এবং শুভজিৎ বর্মণ টাকার বিনিময়ে তালিকায় জালিয়াতি করে ছাত্র ভর্তি করাত। এর সঙ্গে কলেজের একাংশের কর্মীও জড়িত ছিল। এই রাতুল ঘোষ অতীতেও কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। জানা যাচ্ছে, এই রাতুল ঘোষ বৌবাজারে পূর্বরেল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের কর্মীও। একাংশের দাবি, রাতুল তৃণমূল করার সুবাদে ওই ব‍্যাঙ্কে চাকরি পেয়েছিলেন। শুধু তা-ই নয়, পালাবদলের পরেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মুখ খুলতে হুমকি দিয়েছিল।

ঘটনায় অখিল ভারতীয় বিদ‍্যার্থী পরিষদের রাজ্য সম্পাদক নীলকণ্ঠ ভট্টাচার্য বলেন, “চুরি-দুর্নীতি করে আদায় করা টাকা রাখা হয়েছিল। টাকার বদলে কলেজে ভর্তি করা হয়েছিল। পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার নামেও টাকা তোলা হয়েছে। তৃণমূল যদি মনে করে টাকা পুড়িয়ে বেঁচে যাবে তাহলে তাঁরা ভুল ভাবছে।”

ইতিমধ্যেই একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে এক কর্মী বলছেন, যাঁরা দিনের পর দিন কলেজকর্মীদের ঠকিয়েছেন, যাঁরা অধ‍্যাপকদের হুমকি দিয়েছেন এই টাকা তাঁরাই রেখেছেন। তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।


Share