Job Scam

লকডাউনে ঘরেঘরে হাহাকার, করনাকালে সুজিত বসুর অ‍্যাকাউন্টে কোটি টাকার লেনদেন, দশ দিনের হেফাজতে আবেদন ইডির

জেরার সময় সুজিত বসুর বক্তব্যে বারবার অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীদের একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

গ্রেফতার সুজিত বসু।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০১:১৩

কারোও পৌষমাস আবার কারোও সর্বনাশ। লকডাউনের সময় ঘরে-ঘরে হাহাকার। কিন্তু সেই সময় তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর সূর্য তখন মধ‍্যগগনে। ইডি সূত্রের খবর, বেআইনি ভাবে পুরসভায় নিয়োগ করা হয়েছে। তার বিনিময়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন করা হয়েছে। সেই সময় পুরনিয়োগ দুর্নীতির কোটি কোটি টাকা তাঁর এবং পরিবারের সদস্যদের অ‍্যাকাউন্টে ঢুকেছে। মঙ্গলবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে বিচারভবনে হাজির করানো হবে। ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন করা হতে পারে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে। 

পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে নেমে ইডি জানতে পেরেছে, সুজিত বসুর চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের টাকা জমা পড়েছে। ওই রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে প্রায় দেড় থেকে দু’কোটি টাকা জমা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, সুজিত বসু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে গত ৭ বছরে মোট প্রায় আট কোটি টাকা জমা পড়েছে।

দমকলমন্ত্রীর ছেলে সমুদ্র বসুর রেস্তোরাঁয় ইডির আধিকারিকেরা অভিযান চালিয়েছিলেন। সেখান থেকে টাকাও উদ্ধার হয়েছিল। ওই মাসেরই শেষে তারাতলা এবং লেকটাউনে ব্যবসায়ী বিবেক ঢনঢনিয়ার বাড়ি ও দফতরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হয় টাকার পাহাড়ের হদিশ মেলে। ইডি সূত্রের খবর, তারাতলার ওই অফিস থেকে প্রায় তিন কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, ওই সংস্থার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর ছেলে ও মেয়ের অ্যাকাউন্টে টাকা যেত। এর পাশাপাশি প্রচুর সম্পত্তিরও হদিশ মিলেছে। ওই সমস্ত সম্পত্তি কীভাবে কেনা হয়েছিল, টাকার উৎসই বা কী, কেন মন্ত্রীর পুত্র সমুদ্র এবং কন্যার মোহিনীর অ্যাকাউন্টে টাকা যেত— এ সব প্রশ্নেরই উত্তর জানতে চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। 

রেস্তোরাঁর ব্যবসার আড়ালে কালো টাকাকে সাদা করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ইডির তদন্তকারীরা মনে করছেন। ইতিমধ্যেই একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং আর্থিক লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইডি মনে করছে, আর্থিক লেনদেনের উৎস, টাকার প্রকৃত মালিক কারা, দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি তাঁদের যোগ রয়েছে কি না, তা জানতে তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে।

এই করনাকালে লকডাউনের সময় ঘরে-ঘরে যখন হাহাকার, তখন রাজ‍্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর সূর্য তখন মধ‍্যগগনে। পুরনিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাঁর সামনে রাখা হয়। তা নিয়ে জেরার সময় সুজিত বসুর বক্তব্যে বারবার অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তদন্তকারীদের একাধিক প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর তিনি দিতে পারেননি বলেও অভিযোগ। সেই কারণেই তাঁকে গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

প্রসঙ্গত, এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তের সময় অয়ন শীলকে প্রথম গ্রেফতার করেছিল সিবিআই। তল্লাশির সময় অয়ন শীলের অফিস থেকে  বেশ কিছু ওএমআর শিট উদ্ধার হয়। তা থেকেই তদন্তকারীরা পুরনিয়োগ নিয়োগের দুর্নীতির হদিস পান। তদন্তে নেমে অনেককে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। পরে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি তদন্ত করতে আসরে নামে ইডিও। সিবিআইয়ের আধিকারিকেরা জানান, অয়নের শীলের মাধ্যমে প্রায় ১৬টি পুরসভায় বেআইনি ভাবে অনেকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।


Share