Arms Seized

মাটির নীচে চলছিল বন্দুক তৈরির কারখানা! বিহারের অভিযানে উদ্ধার বিপুল অস্ত্র, ধৃত পাঁচজন

লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই বেআইনি অস্ত্র কারখানার সঙ্গে বৃহত্তর কোনও আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্র জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিহারে উদ্ধার বিপুল পরিমাণে অস্ত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ১০:১৫

রাজ‍্যে বেআইনি অস্ত্র যেমন ধরতে তৎপর পুলিশ। তেমনই সেই অস্ত্র পাচারের উৎস খুঁজতে বিহারে অভিযান চালাল কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। বিহার পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে। 

জানা গিয়েছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিহার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তার পরেই গতকাল বিহারের পূর্ণিয়া জেলার ধামদহ থানার অন্তর্গত হরিপুর গ্রামে একটি কারখানার হদিশ মেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কারখানায় মূলত কাগজের প্লেট তৈরি হয়। সেখানে তল্লাশি চালানোর সময় একটি সন্দেহজনক ভূগর্ভের ঘরের হদিশ মেলে। সেখানেই তৈরি করা হত বন্দুক। তদন্তকারীদের দাবি, ওই চেম্বারটিকে এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যে বন্দুক তৈরির সময় সেখান থেকে কোনও শব্দ যাতে বাইরে না আসে। 

এসটিএফ জানিয়েছে, অভিযুক্ত মিঠু কুমার (২৮) ও গব্বর রাই (৩৬)-এর বাড়ির নীচে এই গোপনে এই চেম্বার তৈরি করে বন্দুক তৈরির কাজ করত। তাঁরা সম্পর্কে দুই ভাই বলে জানা গিয়েছে। তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে মহম্মদ আনোয়ার খান (৪৮) এবং মহম্মদ আফতাব আলম ওরফে লাদান (৩৫)-কে গ্রেফতার করে। এরা দু’জনই বিহারের মুঙ্গের জেলার বাসিন্দা।

এই তল্লাশিতে পাঁচটি সেমি-ফিনিশড পিস্তল, পাঁচটি পিস্তলের বডি, চারটি পিস্তলের বাট, একটি লেদ মেশিন, একটি মিলিং মেশিন, একটি ড্রিলিং মেশিন, একটি গ্রাইন্ডিং ও পালিশ করার মেশিন এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করেছে। পরবর্তীতে এই চক্রের মূল চক্রী সুরজ কুমার (৩৫)-কেও বিহারের মুঙ্গের জেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধামদহ থানার পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে।

লালবাজারের এক কর্তার কথায়, ঘটনার তদন্ত চলছে। এই বেআইনি অস্ত্র কারখানার সঙ্গে বৃহত্তর কোনও আন্তঃরাজ্য অস্ত্র পাচার চক্র জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share