Howrah Ferry Service

পুজোর মুখে চরম ভোগান্তি! বকেয়া বেতন-বোনাসের দাবিতে কর্মবিরতি, চতুর্থীতে হাওড়ার ১৪টি ঘাটে বন্ধ ফেরি পরিষেবা

বকেয়া বেতন ও পুজোর বোনাসের দাবিতে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মবিরতি। চতুর্থী থেকে হাওড়ার ১৪টি ঘাটে ফেরি পরিষেবা বন্ধ, সমস্যায় নিত্যযাত্রী ও পুজোর দর্শনার্থীরা।

হাওড়া ফেরি ঘাট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:০৫

পুজোর আনন্দে ব্যাঘাত! বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করলেন হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির কর্মীরা। এর জেরে বুধবার, চতুর্থীর দিন থেকেই হাওড়ার প্রায় ১৪টি ঘাটে বন্ধ হয়ে গেল ফেরি পরিষেবা। ফলে হাওড়া থেকে কলকাতায় যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন হাজার হাজার নিত্যযাত্রী ও পুজোর দর্শনার্থী।

দু’মাসের বেতন বকেয়া, পুজোর মুখে আর্থিক সঙ্কট

মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া রেলস্টেশন লাগোয়া ফেরিঘাটে বিক্ষোভ দেখান সমিতির কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত দু’মাসের বেতন এবং পুজোর বোনাস এখনও মেলেনি। উৎসবের আগে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে তাঁদের। বারবার দাবি জানিয়েও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।

কর্মচারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সমিতিতে প্রায় ২৫০ জন কর্মী কাজ করেন। হাওড়া থেকে গোলাবাড়ি, শোভাবাজার, বাগবাজার, চাঁদপাল, আর্মানি ঘাট ও প্রিন্সেপ ঘাট-সহ বিভিন্ন রুটে ফেরি পরিষেবা পরিচালিত হয়। এ ছাড়াও হাওড়ার বাউড়িয়া ও নুরপুর জলপথে ফেরি চলে। কর্মবিরতির জেরে এই পরিষেবাগুলিতে যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।

টিকিট বিক্রির আয় নিয়েও প্রশ্ন

কর্মীদের দাবি, পুজোর মরসুমে সমিতির ১৪টি ফেরিঘাটে টিকিট বিক্রি করে কয়েক লক্ষ টাকা আয় হয়। সেই টাকা থেকে অনায়াসেই তাঁদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব ছিল। তা সত্ত্বেও কেন বেতন ও বোনাস দেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

উল্লেখ্য, সমিতির নির্বাচিত পরিচালন পর্ষদ না থাকায় বর্তমানে হাওড়া জেলা সমবায় দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি (এআরসিএস) প্রশাসকের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।

মঙ্গলবার সমিতির পরিচালন পর্ষদের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছিলেন, কলকাতা পোর্ট ট্রাস্ট, রাজ্য পরিবহণ দফতর ও জেলা পরিষদকে ভাড়া বাবদ মোটা টাকা দিতে হয়। আগে সেই টাকা মেটানো প্রয়োজন, তার পর কর্মীদের বেতন দেওয়া হবে। তবে বোনাসের বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বুধবার ফেরি পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


Share