Kolkata Accident

গত ২০২৫ সালের অগস্ট মাসে কলকাতায় দুর্ঘটনার সংখ্যা সর্বাধিক, ১৯৮৪টি পথদুর্ঘটনা প্রাণ হারিয়েছেন ১৫৪ জন, পরিসংখ্যান দিল লালবাজার

গত ২০২৫ সালে শহরে কত দুর্ঘটনা ঘটেছে তার পরিসংখ্যান দিয়েছে লালবাজার। লালবাজারের বক্তব্য, অফিস টাইমে দুর্ঘটনার হার সবচেয়ে বেশি। আবার রাতের দিকেও দুর্ঘটনার সংখ্যা বেশি। নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে তা পরিবর্তন হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪৮

২০২৫ সালে কলকাতায় মোট ১,৯৮৪টি পথ দুর্ঘটনার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে লালবাজার। এর মধ্যে ১,৮৩৩টি ঘটনায় মানুষ ১,৮৩০ আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় মোট ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১,১৬৪ জন গুরুতর জখম হয়েছেন। তার মধ্যে সামান্য আঘাত পেয়েছেন ৪৯১ জন। অন্য দিকে, দুর্ঘটনার শিকার হলেও কোনও আঘাত পাননি ১৭৪ জন।

লালবাজারের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও সেপ্টেম্বরে কলকাতায় পথ দুর্ঘটনায় সর্বাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ওই বছরে জানুয়ারিতে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন। জুন ও জুলাই মাসে ১৪ জন করে এবং মার্চ মাসে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয়েছে। অন‍্য দিকে, মার্চে মৃতের সংখ্যা ১০ জন, জুন ও জুলাই মাসে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে লালবাজার জানিয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যার নিরিখে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা গিয়েছে অগস্ট মাসে। ওই মাসে পথ দুর্ঘটনায় ১৮৩ জন মানুষ আহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে আহতের সংখ্যা ১৭১। অক্টোবরে ১৬৯ জন এবং নভেম্বরে ১৬৩ জন দুর্ঘটনায় জখম হয়েছেন। অন্য দিকে, জুনে ১৬০ জন আহত হয়েছেন। জুলাইয়ে ১৩০ জন আহত হয়েছেন। সেপ্টেম্বরে আহত হয়েছেন ১৭১ জন।

কোন সময়ে দুর্ঘটনা সর্বাধিক হয়েছে তা-ও জানিয়েছে লালবাজার। লালবাজারের বক্তব্য, সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা সর্বাধিক। অফিস টাইমে এই সংখ্যাটা বেশি। আবার অফিস থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার সংখ্যাও সর্বাধিক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দুর্ঘটনায় ১১৩ জন আহত হয়েছেন এবং চার জনের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে আহত হয়েছেন ১১০ জন।

আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ১০১ জন এবং সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে ১০৭ জন আহত হয়েছেন। অন্য দিকে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে দুর্ঘটনায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭৮ জন মানুষ আহত হয়েছেন। অর্থাৎ, দিনের পাশাপাশি রাতের নির্দিষ্ট সময়েও দুর্ঘটনার জেরে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা যথেষ্ট উদ্বেগজনক বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

এ ছাড়াও, ওই বছরের জানুয়ারি, মার্চে, জুনে, জুলাইয়, সেপ্টেম্বর মাসে কয়েকটি ধর্মীয় উৎসব ছিল। সেই মাসগুলির দুর্ঘটনা ও হতাহতের পরিসংখ্যানে উল্লেখযোগ্য। তবে, এই পরিসংখ্যান থেকে উৎসবের মাসগুলিতে দুর্ঘটনা ও হতাহতের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, শুধুমাত্র এই তথ্যের ভিত্তিতে দুর্ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করা যায় না বলেই মনে করা হচ্ছে। তা নির্ধারণের জন্য যানবাহনের সংখ্যা, রাস্তায় মানুষের চলাচল, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং কোন জায়গায় কত দুর্ঘটনা ঘটছে তা বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন বলেও মনে করা হচ্ছে।


Share