New Market Fire

দু’টি ঘরের মাঝে কাঠের প্রাচীর! দিঘায় রয়েছে আরও দু’টি হোটেল, কোথায় বীরেশ্বর? এখনও খুঁজে পেল না পুলিশ

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ মার্কেট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ‘শিখা ইন’ দ্বিতীয় তল এবং চতুর্থ তল বীরেশ্বর মিত্রের স্ত্রীর নামে ছিল।

নিউ মার্কেটের হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও অধরা মালিক।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০৮:২৪

নিউ মার্কেট কান্ডে ন’জনের মৃত্যু হয়েছে। জানা গিয়েছে, গেস্ট হাউস বা হোটেল তৈরির জন্য কোনও নিয়মই মানা হয়নি। আটটি ঘর রয়েছে। কাঠ দিয়ে প্রতিটি ঘরের প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। ‘শিখা ইন’ ভবনের দ্বিতীয় এবং চতুর্থ তলে বীরেশ্বর মিত্রের গেস্ট হাউস রয়েছে। বাণিজ্যিক ভবন তৈরি করতে কোনও নিয়মই মানা হয়নি।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। দমকল বিভাগের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউ মার্কেট থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ‘শিখা ইন’ দ্বিতীয় তল এবং চতুর্থ তল বীরেশ্বর মিত্রের নামে ছিল। দ্বিতীয় তলটিকে গেস্ট হাউস পরিচালনার জন্য লিজে আবু জাফরকে দেওয়া হয়েছিল। গত পাঁচ মাস আগে আবুর সঙ্গে চুক্তি হয়। আবুর স্ত্রীর সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। যাবতীয় পরিচালনার দায়িত্ব আবুরই ছিল। আবুর কাছ থেকে প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে বীরেশ্বর নিত। ব‍্যবসা করার জন‍্য ট্রেড লাইসেন্স, দমকলের ছাড়পত্র, জিএসটি— সবটাই বীরেশ্বর মিত্রের নামেই রয়েছে। আবু শুধুমাত্র গেস্ট হাউস পরিচালনা করত। এই সমস্ত যাবতীয় সরকারি কাগজপত্রের কাজ বীরেশ্বরেরই ছিল। গেস্ট হাউসে যে কর্মী মারা গিয়েছেন তাঁকেও আবু নিয়োগ করেছিল।

তবে দু’জনের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তার যাবতীয় কাগজপত্র ধৃত আবু জাফরের স্ত্রীর কাছে রয়েছে। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ) কুনাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, বীরেশ্বর মিত্রের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে আবুর স্ত্রীকেও পাওয়া যাচ্ছে না। ঘটনায় আবু জাফরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে আগামী ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বীরেশ্বরের নিউ‍ মার্কেটে দু’টি হোটেল রয়েছে। এ ছাড়াও, তাঁর দিঘাতে দু’টি হোটেল রয়েছে। সেটাও তদন্তকারীদের স্ক্যানারে মধ‍্যে রয়েছে। গ্রেফতার হয়ে আবু জাফর নামে এক ব্যক্তি। পাশাপাশি ইন্দ্র জয়সওয়াল-সহ দু’জনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাঁরা ‘শিখা ইন’-এ কাজ করতেন না। বীরেশ্বরের সম্ভাব্য ঠিকানা পেতেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রের খবর, বীরেশ্বর এবং তাঁর স্ত্রীকে খুঁজে পেতে ফোন নম্বরকে হাতিয়ার করা হয়েছে।

ঘটনার মূল অভিযুক্ত বীরেশ্বর মিত্র এবং তাঁর স্ত্রীকে এখনও খুঁজে পেল না পুলিশ। পুলিশের দক্ষতা এবং পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করছে। এ দিকে ঘটনায় সাত জন বাংলাদেশের নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় কেটে গিয়েছে। মূল অভিযুক্ত এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে।


Share