New Market Fire

বেহালার বাড়িতে ফিরতেই গ্রেফতার শিখা ইনের মালিক, পালিয়েছিলেন ভিনরাজ‍্যে, বীরেশ্বরকে হেফাজতে নিল পুলিশ

মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার পর থেকেই মালিক বীরেশ্বর মিত্র বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ন’জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে সাত জনই বাংলাদেশের বাসিন্দা। তার পরেই সক্রিয় হয় প্রশাসন।

গ্রেফতার বীরেশ্বর মিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ ০৬:৫২

অবশেষে গ্রেফতার নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত। ধৃতের নাম বীরেশ্বর মিত্র (৪৭)। মঙ্গলবার রাতের ঘটনার পরেই তিনি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, নিজের গাড়ি নিয়ে ঝাড়খন্ডে পালিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় বেহালার ডায়মন্ড হারবার রোডের বাড়িতে ফিরতেই তিনি গ্রেফতার হলেন।

মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তার পর থেকেই মালিক বীরেশ্বর মিত্র বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ন’জনের মৃত্যু হয়। তার মধ্যে সাত জনই বাংলাদেশের বাসিন্দা। তার পরেই সক্রিয় হয় প্রশাসন। তাঁর দু’টি ব‍্যাঙ্কের অ‍্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়া হয়। এর জেরে নগদ টাকার টান পড়ে। ঝাড়খন্ডের ধানবাদে বীরেশ্বরের দুই কর্মচারী থাকেন। মনে করা হচ্ছে তিনি সেখানেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন। রবিবার দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করানো হবে বলে জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে।

জানা গিয়েছে, ওই হোটেলের ১ হাজার ১০০ বর্গফুট জায়গার মধ্যে পাঁচটি ঘর করা হয়েছিল। প্রতিটি ঘরের প্রাচীর কাঠ দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। বেআইনি হোটেলে কোনও ফায়ার অডিট ছিল না। বাণিজ্যিক ভাবে ওই জায়গা ব্যবহার করার জন‍্য দমকলেরও কোনও ছাড়পত্র ছিল না। ঘটনার পর থেকেই বীরেশ্বরের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়েছিল। তাঁর দিঘা এবং মন্দারমণিতেও দু’টি হোটেল রয়েছে। শুক্রবার সেখানেও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে যৌথ ভাবে তল্লাশি অভিযান চালায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছিল, ঘটনার পরে এক কর্মচারীকে ফোন করেছিল বীরেশ্বর। তার পর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ আসছিল। অবশেষে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হল।

শুক্রবার অভিযান চালিয়ে নিউ মার্কেট এলাকার ১১টি হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পুরসভা এবং দমকলের যৌথ কমিটি এই সিদ্ধান্ত নেয়। শনিবার আরও ছ’টি হোটেল বন্ধ করা হয়েছে বলে জানান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। এ দিন আরও ১৭টি হোটেলকে দমকল শো কজ করেছে।

‘শিখা ইন’-এর যে অংশটিতে আগুন লাগে সেটি আবু জাফর বলে এক ব্যক্তিকে লিজে দেওয়া হয়েছিল। প্রতি মাসে ৪০ হাজার টাকা করে বীরেশ্বরকে সে তুলে দিত। ওই ভবনেরই পাঁচ তলায় আরেকটি অংশ বীরেশ্বরের নামে রয়েছে। সেই অংশটি উমেশ সিংহ এবং জিতেন সিংহ নামে দু’জনকে লিজে দিয়েছিল। শুক্রবার তাঁদেরকেও পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ওই অংশটিকেও দমকলের কোনও নিয়ম মানা হয়নি বলেও পুলিশ জানিয়েছে।


Share