Jahangir Khan

ফলতার তৃণমূল নেতার অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ তুলে নিল কলকাতা হাই কোর্ট, মামলা পাঠানো হল নিয়মিত বেঞ্চে

অভিযোগ, থানায় মামলা রুজু হওয়ার পরে একাধিক বার পুলিশের আধিকারিকেরা জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়েছেন। কিন্তু প্রত‍্যেক বারই ফিরে এসেছেন। তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। জাহাঙ্গির তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তাই তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি জানায় রাজ‍্য সরকার।

(বাঁ দিক থেকে) তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জাহাঙ্গির খান।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ১০:০৩

ফলতার তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষাকবচ তুলে নিল কলকাতা হাই কোর্ট। গত ১৮ মে-র শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জাহাঙ্গির খানকে ২৬ মে পর্যন্ত রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি পার্থসারথি সেনের অবকাশকালীন বেঞ্চ নতুন করে তার রক্ষাকবচ বাড়ায়নি। মামলাটিকে নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠিয়ে দিয়েছেন।

মামলার রাজ‍্যের পক্ষে সওয়াল করেছেন অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার। তিনি আদালতকে জানান, জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ভোটারদের হুমকি দেওয়া, তোলাবাজির মতো গুরুতর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে। এমনকী, ইভিএমে সেলোটেপ লাগানোর মতো অভিযোগও রয়েছে জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে। সেই কারণেই ফলতায় পুননির্বাচন করতে হয়েছে। আইনজীবী রাজদীপের কথায়, নির্বাচন কমিশনই এই অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।

অভিযোগ, থানায় মামলা রুজু হওয়ার পরে একাধিক বার পুলিশের আধিকারিকেরা জাহাঙ্গিরের বাড়িতে গিয়েছেন। কিন্তু প্রত‍্যেক বারই ফিরে এসেছেন। তাঁকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। জাহাঙ্গির তদন্তে সহযোগিতা করছেন না। তাই তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি জানায় রাজ‍্য সরকার।

তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খানের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার পর্যন্ত জাহাঙ্গিরকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিয়েছিল। তখন আদালত মনে করেছিল, জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন‍্য করা হয়েছে। আইনজীবী আদালতকে আরও জানান, যে এফআইআর জাহাঙ্গিরে বিরুদ্ধে করা হয়েছে, তা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। দাবি করা হয়েছে, অভিযোগ স্পর্শকাতর। তাই করা হয়নি। এর জবাবে রাজ্যের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার জানান, এর মাধ্যে একটি অভিযোগ স্পর্শকাতর। তাই আপলোড করা হয়নি।

কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি দু’পক্ষের সওয়াল জবাব শোনেন। বিচারপতির বক্তব্য, সেই সময় এই এফআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় নথি আদালত পায়নি। এখন নির্বাচন শেষ হয়ে গিয়েছে। এফআইআর সংক্রান্ত নথি আদালতের কাছে এসেছে। সেই রিপোর্ট পাওয়ার পরে আদালত এফআইআর প্রত্যাহারের নির্দেশ রাজ‍্যকে দিতে পারে না। এর পরেই আত্মসমর্পণ করার জন্য নির্দেশ দেন বিচারপতি পার্থসারথি সেন। 

এ দিন ফলতা থানার আইসি আদালতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জালহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। ডায়ামণ্ড হারবার এসিজেএম আদালতে এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়েছিলেন এই তৃণমূল নেতা। জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে মোট সাতটি এফয়াইয়ার জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে।


Share