RG Kar Case

আরজি কর ধর্ষণ-খুন মামলায় সিবিআইকে সময়সীমা বেধে দিল হাই কোর্ট, তিন সপ্তাহের মধ্যে শেষ করতে হবে অতিরিক্ত তদন্ত

আদালত সূত্রের খবর, সিবিআইকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত তদন্তের কাজ শেষ করতে হবে। বিচারপতি শম্পা সরকার ও তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬ ০৫:৪৮

আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দলকে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দিল। আদালত সূত্রের খবর, সিবিআইকে তিন সপ্তাহের মধ্যে অতিরিক্ত তদন্তের কাজ শেষ করতে হবে। বিচারপতি শম্পা সরকার ও তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দিয়েছে।

শুক্রবার হাই কোর্টে আরজি কর মামলার শুনানি হয়। রুদ্ধদ্বার কক্ষে হওয়া ওই শুনানিতে সিবিআই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চকে বিস্তারিত জানায় বলে আদালত সূত্রে খবর। নির্যাতিতার পরিবারের তরফে মামলায় মোট ৫৪টি বিষয় খতিয়ে দেখার আবেদন হয়েছিল। সিবিআই আদালতকে জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই তার মধ্যে ১৬টি বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।

সিবিআইয়ের দ্বিতীয় দফার তদন্তে এখনও পর্যন্ত কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে, তা তদন্তকারী সংস্থা আদালতকে জানিয়েছে। সূত্রের খবর, আরজি করের ঘটনার দিন আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক ডেলিভারি বয় রাতে খাওয়ার নিয়ে এসেছিলেন। তদন্ত সুবিধার্থে ওই ডেলিভারি রয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশপাশি, রাতে নির্যাতিতার সঙ্গে খাওবার খাওয়া চার চিকিৎসককেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আদালত সূত্রের খবর, বাকি তদন্ত শেষ করতে নতুন তদন্তকারী দল চার সপ্তাহ সময় চেয়েছিল। তবে কলকাতা হাই কোর্ট তিন সপ্তাহের জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ফের এই মামলার শুনানি হবে।

আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তের ভার প্রথমে কলকাতা পুলিশের হাতেই ছিল। সেসময় পুলিশই মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করেম বর্তমানে সঞ্জয় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করেছেন। পরে সিবিআইয়ের হাতে মামলার তদন্তভার দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাদের চার্জশিটে সঞ্জয় রায়কেই একমাত্র অভিযুক্ত হিসাবে উল্লেখ করে। এরপর শিয়ালদহ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়।

তবে শুরু থেকে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যেরা কলকাতা পুলিশ ও সিবিআইয়ের তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। তাদের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত সিবিআইকে নতুন করে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনেই সিবিআই একটি নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে।

গত শুনানিতে সিবিআইয়ের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) তাদের তদন্তের রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছিল। তবে সেই শুনানিতেই কলকাতা হাই কোর্ট সিবিআইয়ের তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, আগের তদন্তের প্রভাব থেকে নতুন তদন্তকারী দলও বেরিয়ে আসতে পারছে না। বেঞ্চের নির্দেশ, মামলার শুরু থেকেই বার বার যে বিষয়টির উপর জোর দেওয়া হয়েছে, তা ফের খতিয়ে দেখতে হবে। ঘটনার রাতে ঘটনাস্থল থেকে শ্মশানঘাট পর্যন্ত ঠিক কী কী ঘটেছিল, তার পুনরায় তদন্ত প্রয়োজন। আদালতের নির্দেশের পর আরজি কর হাসপাতালেও যায় সিবিআইয়ের নতুন তদন্তকারী দল।


Share