Abhishek Banarjee

অভিষেকের বাড়িতে তল্লাশি নিয়ে পুলিশের কাছে হলফনামা তলব করল হাই কোর্ট, ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ বিচারপতির

সেই অভিযানে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১০:২৬

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে গভীর রাতে পুলিশের তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাই কোর্ট। কেন ভোররাতে ওই অভিযান চালানো হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা চেয়ে রাজ্য পুলিশকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। পাশাপাশি তল্লাশির সময়ের সিসিটিভি ফুটেজের সঙ্গে অডিয়ো ও ভিডিয়ো রেকর্ডও সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের হলফনামার পরবর্তী দু’সপ্তাহের মধ্যে মামলাকারী পক্ষকেও পাল্টা হলফনামা জমা দিতে হবে।

গত ১৩ জুন ভোরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজে কালীঘাটের বাড়িতে তল্লাশি চালায় শালবনি থানার পুলিশ। সেই অভিযানে পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।

অভিষেকের হয়ে সওয়াল করেন আইনজীবী কিশোর দত্ত। তিনি আদালতে জানান, যে এফআইআরের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়, সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম নেই। অভিযুক্ত হিসেবে শুধুমাত্র সুমিত রায়ের নাম রয়েছে। শুধুমাত্র সন্দেহের বশে সুমিত অভিষেকের বাড়িতে রয়েছেন মনে করেই পুলিশ তল্লাশি চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, ভোর ৩টের সময় পুলিশ বাড়িতে পৌঁছোয় এবং পরে দরজা খোলার জন্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকেও ডাকা হয়। অথচ কোনও তল্লাশি পরোয়ানা ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে আদালতে অভিযোগ তোলেন তিনি।

শুনানির সময় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, আবেদনকারী কি তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তের বিরোধিতা করছেন? জবাবে কিশোর দত্ত স্পষ্ট করেন, তাঁদের আপত্তি তল্লাশি নয়, পুলিশের ‘অতিসক্রিয়তা’ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে।

অন্য দিকে, রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার আদালতে জানান, সুমিত রায় পালিয়ে যেতে পারেন এই আশঙ্কা থেকেই ওই সময় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। তবে এই যুক্তির বিরোধিতা করেন অভিষেকের আইনজীবী। তিনি বলেন, তিনি সুমিত রায়ের হয়ে সওয়াল করতে আসেননি, বরং পুলিশের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন।

দু’পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত জানায়, এই মুহূর্তে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে পুলিশকে হলফনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি তল্লাশির সময়ের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ, অডিয়ো ও ভিডিয়ো রেকর্ড সংরক্ষণ করে রাখার নির্দেশও দিয়েছে হাই কোর্ট।


Share