Calcutta High Court

‘অভিষেকের মুখ দেখতে চাইছে ব্যাঙ্ক!’ কেওয়াইসি নিয়ে ভর্ৎসনা হাই কোর্টের, দ্রুত সমস্যা মেটানোর নির্দেশ বিচারপতির

তবে অভিষেকের কেওয়াইসির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। এর পরেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও যখন কেওয়াইসির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, তখন কেন তাঁকে ব্যাঙ্কে গিয়ে নতুন করে কেওয়াইসি করাতে হবে?

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০২৬ ০২:১৮

অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ মামলায় ব্যাঙ্ককে ভর্ৎসনা করল কলকাতা হাই কোর্ট। কেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ব্যাঙ্কে গিয়ে কেওয়াইসি করাতে হবে, তা নিয়ে বিচারপতি কৃষ্ণ রাও প্রশ্ন তুললেন। তাঁর মন্তব্য, ব্যাঙ্ক কি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ দেখতে চাইছে?

ব্যক্তিগত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার অভিযোগ নিয়ে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সোমবার বিচারপতি রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির শুরুতে তিনি জানান, তাঁর মক্কেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দু’টি ক্রেডিট কার্ডও ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে তাঁকে কোনও তথ্য জানানো হয়নি বলে আদালতে জানান আইনজীবী। পরে ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কেওয়াইসি করানোর কথা বলা হয়। তবে অভিষেকের কেওয়াইসির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়। এর পরেই প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি কৃষ্ণ রাও যখন কেওয়াইসির মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি, তখন কেন তাঁকে ব্যাঙ্কে গিয়ে নতুন করে কেওয়াইসি করাতে হবে?

এই বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘‘এখন অনলাইনে কেওয়াইসি হয়। সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে ওই পদ্ধতি হয়ে যাচ্ছে। অভিষেকের ক্ষেত্রে কেন কেওয়াইসির জন্য ডেকে পাঠানো হল? মনে হয় তাঁর মুখ দেখতে চাইছে ব্যাঙ্ক!’’

কেওয়াইসি করানোর জন্য অভিষেককে ব্যাঙ্কের পাঠানো চিঠির ভাষা নিয়েও হাই কোর্ট প্রশ্ন তোলে। আদালতের মন্তব্য, ‘‘একজন গ্রাহককে এই ভাষায় চিঠি পাঠাতে পারে ব্যাঙ্ক?’’ এরপরই বিচারপতি দ্রুত সমস্যার সমাধানের নির্দেশ দিয়ে জানান, এ বিষয়ে কোনও বাড়তি সময় দেওয়া হবে না।

ব্যাঙ্কের আইনজীবী জানান, ব্যাঙ্কের অভ্যন্তরীণ কিছু সমস্যার কারণেই কেওয়াইসির জন্য অভিষেককে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তবে সেই বিষয়টি প্রকাশ্যে জানানো সম্ভব নয়। জবাবে বিচারপতি বলেন, ‘‘থাকতেই পারে। কিন্তু একজন গ্রাহককে না জানিয়ে কী ভাবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারেন?’’

ব্যাঙ্কের আইনজীবী তার উত্তরে বলেন, ‘‘অভিষেকের নাম, ফোন নম্বর এবং অন্য নথির সঙ্গে ইডির একটি মামলা জড়িত। সেই কারণে আমরা প্রকাশ্যে সব কিছু বলতে পারি না। কেওয়াইসি করা প্রয়োজন।’’ বিচারপতি তখন ব্যাঙ্ককে বলেন, ‘‘প্রথমে বলেছিলেন কেওয়াইসির জন্য ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এখন বলছেন ইডির মামলার জন্য!’’ এর পরই ব্যাঙ্ককে ভর্ৎসনা করে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করবেন না। ব্যাঙ্কের ম্যানেজারকে তলব করতে বাধ্য হব। দ্রুত সমস্যার সমাধান করুন। অনালাইনেও কেওয়াইসি করা যায়।’’

দুপুর ১২টায় ব্যাঙ্কের আইনজীবী মামলাটি ফের শুনানির জন্য রাখার আর্জি জানান। তিনি জানান, ওই সময়েই ব্যাঙ্কের অবস্থান আদালতের সামনে স্পষ্ট করা হবে। প্রয়োজনে ব্যাঙ্কের কোনও কর্মী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে গিয়েও কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন বলে তিনি জানান। তবে বিচারপতি ব্যাঙ্ককে কেওয়াইসির জন্য ঠিক কী কী নথি প্রয়োজন, তা স্পষ্ট করে জানাতে বলেন।


Share