Calcutta High Court

পলাতক বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়, আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাই কোর্টের

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টের মধ্যে তাঁকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:২৮

কোচবিহারের রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৩টের মধ্যে তাঁকে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্রশান্ত বর্মনের বেতন অবিলম্বে বন্ধ করার পাশাপাশি তাঁর যাবতীয় সম্পত্তির তালিকা তৈরি করে বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

নিউটাউনে স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে খুনের মামলায় অভিযুক্ত প্রশান্ত বর্মন এখনও পলাতক। বিডিও পদে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে আত্মসমর্পণ না করে রয়েছেন, তা নিয়ে এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হাই কোর্ট। এমন একজন অভিযুক্তকে সরকার কীভাবে এখনও বেতন দিচ্ছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনও অভিযুক্ত দীর্ঘদিন পলাতক থাকলে আদালত তাঁর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিতে পারে।

প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করছে সিআইডি। আগামী ১৪ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানিতে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শুনানিতেও প্রশান্তকে গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল হাই কোর্ট।

নিউটাউনের স্বর্ণ ব্যবসায়ী খুনের মামলায় এর আগে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিধাননগরের অ্যাডিশনাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রশান্ত বর্মনকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও শীর্ষ আদালত হাই কোর্টের নির্দেশই বহাল রাখে। এরপরও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত। পরে নিউটাউনে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্তি পান তিনি। তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে একটি বেসরকারি সংগঠনের দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার শুনানিতেই এ দিন কড়া অবস্থান নেয় কলকাতা হাই কোর্ট।


Share