Special Intensive Rivision

‘এত কম সময়ে কাজ শেষ করা যাবে?’ এসআইআর নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির

শনিবার এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এসআইআর নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেল।

কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:২৩

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তথ্যগত অসঙ্গতি যাচাই ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব এ বার রাজ্যের বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, এই কাজ বিচারকেরাই করবেন। কারা এই দায়িত্ব পালন করবেন, তা নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালকে। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে এত বিপুল কাজ শেষ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান বিচারপতি নিজেই।

শনিবার এই নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি এসআইআর নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, ডিজিপি, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ও অ্যাডভোকেট জেনারেল। সেখানেই প্রায় ৪৫ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাইয়ের সম্ভাবনার কথা উঠে আসে। এত স্বল্প সময়ে এই বিপুল পরিমাণ নথি খতিয়ে দেখা কতটা সম্ভব, তা নিয়েই প্রধান বিচারপতি উদ্বেগ জানান। এসআইআরের কাজে এই মুহূর্তে কত জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে নিযুক্ত করা সম্ভব তা-ও নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনকে তিনি জানিয়েছেন।

সূত্রের খবর, আপাতত প্রায় ২৫০ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিককে এই কাজে নিয়োগ করা যেতে পারে বলে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন। রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে, যেখানে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বৈঠকে কমিশনের তরফে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্রে একজন করে বিচার বিভাগীয় আধিকারিক নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। বিধানসভা ও জেলাভিত্তিক তথ্যগত অসঙ্গতি অর্থাৎ লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-এর তালিকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। রবিবার দুপুর ১২টার মধ্যে সেই তালিকা সরবরাহ করা হবে বলে কমিশন জানিয়েছে। সোমবার থেকেই পুনরায় নথি যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের সব বিচারকের ছুটি বাতিল করে কলকাতা হাই কোর্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। অসুস্থতা ছাড়া কোনও বিচারক ছুটি নিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। যাঁদের বদলি হয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে এবং ‘ট্রানজিট লিভ’ নেওয়া যাবে না। ৯ মার্চ পর্যন্ত বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের সব প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়েছে। রাজ্যের বাইরে কোনও প্রশিক্ষণ বা সেমিনারে অংশগ্রহণের অনুমতিও বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে যারা ছুটিতে আছেন, তাঁদেরও চিকিৎসাজনিত কারণ ছাড়া আগামী সোমবারের মধ্যে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর পদক্ষেপের সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে।


Share