Calcutta High Court

রোগী স্থানান্তরে টালবাহানা, রাজ্যের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হাই কোর্ট, ‘গোটা সিস্টেম কোলাপসড’ মন্তব্য বিচারপতির

আদালত রাজ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়, গত বছরের জুলাই মাসেই রোগীকে স্থানান্তরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তারপর একাধিক শুনানি হলেও বারবার সময় চেয়ে এসেছে রাজ্য। এ দিন বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১০ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেটিই রাজ্যের জন্য শেষ সুযোগ।

কলকাতা হাই কোর্ট
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:৩১

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত এক মহিলাকে বেসরকারি হাসপাতাল থেকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর ঘিরে মামলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট। দু’বছর আগে একটি বেসরকারি হাসপাতাল এই বিষয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। গত বছর রাজ্য সরকার হাই কোর্টকে আশ্বাস দিয়েছিল যে রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বুধবার মামলার পুনরায় শুনানিতে এই বিষয়েই ক্ষোভ উগরে দেয় আদালত।

বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কড়া ভাষায় রাজ্যের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘আপনারা কী ভাবে রাজ্য চালাচ্ছেন? সব কিছু ভেঙে পড়ছে। এটা এমন নয় যে পাবলিকের জন্যে কোনও বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বলা হয়েছে বা আরও বড় কিছু। একজন রোগীকে শুধু সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়। রাজ্যের সৌজন্য পর্যন্ত নেই। স্বাস্থ্যসচিবকে ডাকতে গেলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। আবার একজন রোগীকে ভর্তির ব্যবস্থাও করতে পারছেন না! গোটা সিস্টেম কোলাপসড।’

আদালত রাজ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়, গত বছরের জুলাই মাসেই রোগীকে স্থানান্তরের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তারপর একাধিক শুনানি হলেও বারবার সময় চেয়ে এসেছে রাজ্য। এ দিন বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, আগামী ১০ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানি হবে এবং সেটিই রাজ্যের জন্য শেষ সুযোগ। ওই দিন ইতিবাচক পদক্ষেপ না দেখা গেলে আদালত প্রয়োজনীয় নির্দেশ জারি করবে।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালে পথদুর্ঘটনায় গুরুতর আহত ওই মহিলাকে ইএম বাইপাস সংলগ্ন একটি কর্পোরেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন থেকে তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে ২০২৪ সালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এরপর থেকেই আদালত রাজ্যকে রোগীকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করতে নির্দেশ দিয়ে আসছে।

দীর্ঘ টালবাহানার পর গত বছরের জুলাইয়ে রাজ্য সরকার বেডের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়। কিন্তু বুধবারের শুনানিতেও সরকারি আইনজীবী আবার সময় প্রার্থনা করলে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। স্বাস্থ্যসচিবকে এজলাসে তলব করার উদ্যোগ নেওয়া হলে সরকারি কৌঁসুলি আপত্তি জানান। শেষ পর্যন্ত আদালত ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়ে স্পষ্ট করে দেয়, সেদিনও সন্তোষজনক পদক্ষেপ না হলে কড়া নির্দেশ জারি করা হবে।


Share