RG Kar Case

আরজি কর মামলার পৃথক তদন্ত করবে স্বাস্থ্য দফতর, তলব করা হবে সেদিন রাতে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

গত কয়েক দিন আগে শিয়ালদহ আদালতের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দলের আইও-কে সরানো হয়। নতুন আইও নিযুক্ত করা হয়। গত বৃহস্পতিবার সিট কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশনে রিপোর্ট জমা দিয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৮ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৫০

আরজি কর মেডিকেলে ধর্ষণ ও খুনের পৃথক তদন্ত করবে রাজ‍্যের স্বাস্থ‍্য দফতর। সেই ঘটনার রিপোর্ট কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-কে দেওয়া হবে। শনিবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এমনটাই জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ঘটনার দিন রাতে এবং ঘটনার পরে কী হয়েছিল তা স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা খতিয়ে দেখবেন। এর পাশাপাশি নির্যাতিতার অধ‍্যাপকদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। 

২০২৪ সালে ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর মেডিকেলে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। পরের দিন, ৯ অগস্ট তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাচক্রে আগামীকাল ৯ অগস্ট। সেই ঘটনার দু’বছর পূর্তি হবে। তার আগের দিন রাজ‍্যের স্বাস্থ‍্যমন্ত্রীর নির্দেশ, এই ঘটনায় স্বাস্থ্য দফতর পৃথক ভাবে তদন্ত করবে। ঘটনার আগে এবং পরে কী হয়েছিল তা জানার চেষ্টা করবে স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা। ওই দিন রাতে তরুণী চিকিৎসকের সঙ্গে কারা ছিলেন তাঁদের ডাকা হবে। এ ছাড়াও, বিভাগে কর্মরত চিকিৎসকদেরও ডাকা হবে। তরুণী চিকিৎসকের শিক্ষকদের সঙ্গেও কথা বলা হবে। হাসপাতালের পরিকাঠামোতে কী ফাঁক ছিল, কী ভাবে তা পূরণ করা হল তা জানতে চাওয়া হতে পারে। এই তদন্ত করে যে রিপোর্ট হাতে আসবে তা সিবিআইকে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

৯ অগস্টের সেই ঘটনায় কলকাতা পুলিশ সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করে। কলকাতা পুলিশ সঞ্জয়কেই মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করে। পরে তৎকালীন কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি টিএস শিবঞ্জানমের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের কাছে যায়। সিবিআইও তদন্ত করে সঞ্জয়কেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করে। শিয়ালদহ কোর্টে ট্রায়াল করে। দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সঞ্জয় বর্তমানে যাবজ্জীবন জেল খাটছে।

কিন্তু পরিবারের দাবি ছিল, তদন্তে সিবিআইয়ের তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। তা নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টেও মামলা দায়ের করা হয়। কলকাতা হাইকোর্ট বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। বিশেষ তদন্তকারী দলের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলে নির্যাতিতার পরিবার। গত কয়েক দিন আগে শিয়ালদহ আদালতের নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দলের আইও-কে সরানো হয়। নতুন আইও নিযুক্ত করা হয়। 

গত বৃহস্পতিবার সিট কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশনে রিপোর্ট জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট দেখে হাই কোর্ট উষ্মা প্রকাশ করেছে। আদালতের বক্তব্য, নতুন তদন্তকারী দলটিও পুরোনো তদন্তে প্রভাবিত হচ্ছে। এই তদন্ত সঠিক পথে এগোচ্ছে না বলেও মনে করছে কলকাতা হাই কোর্ট।

ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতা কয়েক জন সহকর্মীর সঙ্গে খাবার খান। পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা সরাই জুনিয়র ডাক্তার ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ধৃত সন্দীপ ঘোষের যোগাযোগ ছিল। এই চার জনকেই হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার দাবি জানিয়েছেন। জুনিয়র ডাক্তার সৌমিত্র রায়ের নাম করেন নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী। তিনি আদালতকে জানান, ওই দিন রাতে সৌমিত্র রায় নামে এক আইনজীবীর সঙ্গে নৈশভোজ সেরেছিলেন। কিন্তু সিবিআই তাঁর বয়ানই রেকর্ড করা হয়নি। তিনি বলেন, “ঘটনার আগে কী ঘটেছিল তা তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না। ঘটনায় সন্দীপ ঘোষের যোগ আছে কি না তা তদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট নেই।”

বিচারপতি ঘোষ প্রশ্ন করেন, সৌমিত্র-সহ বাকি চিকিৎসকদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছিল কি না, পরের দিন নির্যাতিতার পরিবারকে কখন ডাকা হয়েছিল? সিবিআইয়ের আইনজীবী বলেন, “নতুন করে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর জন্য একটু সময়ের প্রয়োজন। দক্ষ আধিকারিকেরা কাজ করছেন।”


Share