Swasthya Bhawan

স্বাস্থ্যসাথী-আয়ুষ্মান নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিতে নয়া নিয়ম, এসওপি জারি স্বাস্থ্য দফতরের

আর কোনও রোগী আয়ুষ্মান ভারতের জন্য যোগ্য না হলে তাঁকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হাসপাতালগুলির কাছে পাঠানো এসওপিতে এই নির্দেশ স্পষ্ট করেছে স্বাস্থ্যভবন।

স্বাস্থ্য ভবন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৫৪

রাজ্যে একই সঙ্গে চালু রয়েছে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’। কোন রোগী কোন প্রকল্পের সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণে হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করল স্বাস্থ্য দফতর।

নয়া স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (এসওপি) অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধাপ্রাপক কোনও রোগী হাসপাতালে গেলে প্রথমে যাচাই করতে হবে তিনি ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর জন্য যোগ্য কি না। তাঁর আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি থাকলে প্রথমে ওই প্রকল্পের আওতাতেই চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে আয়ুষ্মান ভারতের ‘টিএমএস’ পোর্টালে প্রযুক্তিগত বা অন্য কোনও সমস্যা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় নথি ও সমস্যার স্ক্রিনশট জমা দিয়েই স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা করা যাবে। আর কোনও রোগী আয়ুষ্মান ভারতের জন্য যোগ্য না হলে তাঁকে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার হাসপাতালগুলির কাছে পাঠানো এসওপিতে এই নির্দেশ স্পষ্ট করেছে স্বাস্থ্যভবন।

এসওপি অনুযায়ী, রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় প্রথমেই ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (টিএমএস) পোর্টালে আধার নম্বর দিয়ে তাঁর তথ্য যাচাই করতে হবে। সেখানে দেখা যাবে, সংশ্লিষ্ট রোগীর আয়ুষ্মান ভারত কার্ড তৈরি বা প্রিন্ট হয়েছে কি না। কার্ড তৈরি হয়ে থাকলে হাসপাতালকে আয়ুষ্মান ভারতের অপশনে গিয়ে চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তবে কোনও কারণে আয়ুষ্মান পোর্টালে চিকিৎসার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা সম্ভব না হলে ‘ফেসিং ইস্যু’ অপশন বেছে নিতে হবে। সেখানে সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক স্ক্রিনশট আপলোড করা বাধ্যতামূলক। এই তথ্য জমা দেওয়ার পরেই ‘প্রসিড টু স্বাস্থ্যসাথী’ অপশনটি চালু হবে। অর্থাৎ, যথাযথ কারণ ও প্রমাণ ছাড়া কোনও রোগীকে সরাসরি স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা দেওয়া যাবে না।

নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, কোনও রোগীর নাম আয়ুষ্মান ভারতের তালিকায় থাকলেও তাঁর কার্ড অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকলে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় চিকিৎসা চালানো যাবে। কারও ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হয়ে থাকলে প্রথমে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করতে হবে। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশনও করাতে হবে।

অন্য দিকে, কোনও রোগীর নাম আয়ুষ্মান বা স্বাস্থ্যসাথী কোনও তালিকাতেই না থাকলে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনার ফর্ম পূরণ করিয়ে স্বাস্থ্যসাথীর মাধ্যমে চিকিৎসা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিংহোম’-এর সচিব রাজীব পাণ্ডে বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথীর পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত চালুর পরে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, সরকারি এসওপি-তে তা অনেকটাই কেটেছে। আমরা সাংগঠনিক ভাবে এই নির্দেশিকাকে স্বাগত জানাচ্ছি।’

স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের বক্তব্য, রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ চালু হওয়ার পর দুই প্রকল্পের সুবিধাপ্রাপকদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে প্রায় ৮.৫ কোটি মানুষের নাম ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে নথিভুক্ত রয়েছে। অন্য দিকে, ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এ এখনও পর্যন্ত বাংলার প্রায় ৩.৪ কোটি মানুষ নথিভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় ১.২৩ কোটি মানুষের আয়ুষ্মান কার্ড তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় না থাকা প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষের জন্য ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমা যোজনা’র কার্ড দেওয়া হচ্ছে।


Share