Corruption

হাজরার ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতরের অভিযান, উদ্ধার তৃণমূল নেতাদের নাম লেখা স্ট্যাম্প! রক্ত-প্লাজমা পাচারকাণ্ডে তদন্তে নতুন মোড়

সূত্রের খবর, তল্লাশির সময় সেখানে তৃণমূল নেতাদের নাম লেখা একাধিক স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। ওই স্ট্যাম্পগুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কলকাতার ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার তৃণমূলের নেতাদের নাম লেখা স্ট্যাম্প।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৮:২৩

দক্ষিণ কলকাতার হাজরার একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে সোমবার অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতর। আধিকারীকেরা অভিযানে ব্লাড ব্যাঙ্কের বিভিন্ন নথিপত্র খতিয়ে দেখেন। সূত্রের খবর, তল্লাশির সময় সেখানে তৃণমূল নেতাদের নাম লেখা একাধিক স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে। ওই স্ট্যাম্পগুলি কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হত, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। রক্তপাচার-সহ ব্লাড ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের জেরে গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতা ও রাজ্যের একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কে স্বাস্থ্য দফতর ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে।

রাজ্যের একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে অর্থের বিনিময়ে রক্ত ও প্লাজমা পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া রক্তদান শিবির আয়োজন এবং রক্ত সংগ্রহে একাধিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। এই অভিযোগগুলির তদন্তে সোমবার দক্ষিণ কলকাতার হাজরার একটি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য দফতর। সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা অভিযানের সময় ব্লাড ব্যাঙ্কের বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখেন। তল্লাশির সময় একটি ট্রে থেকে একাধিক স্ট্যাম্প উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওই স্ট্যাম্পগুলিতে তৃণমূল নেতা সুজিত বসু-সহ কয়েক জন তৃণমূল নেতার নাম এবং তার নীচে ‘ফ্রি’ শব্দটি লেখা ছিল বলে সূত্রের দাবি। রক্ত সংগ্রহ বা সরবরাহের ক্ষেত্রে এই স্ট্যাম্পগুলি ব্যবহার করা হত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়াও, ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার হওয়া কয়েকটি রক্তের পাউচে নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় বেশি পরিমাণ রক্ত পাওয়া গিয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। কীভাবে নিয়ম ভেঙে এত পরিমাণ রক্ত সংগ্রহ করা হল, স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকেরা তা-ও খতিয়ে দেখছেন।

এর আগেও সন্দেহভাজন একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কে অভিযান চালিয়েছিল স্বাস্থ্য দফতর। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ হিসেবে রাজ্যের ১১টি ব্লাড ব্যাঙ্কের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ভবনের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলি কোনও রক্তদান শিবির আয়োজন করতে পারবে না। এই নিষেধাজ্ঞা ১ অগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারীকেরা নিষেধাজ্ঞা জারির আগে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় একাধিক ব্লাড ব্যাঙ্কে তল্লাশি চালান। অভিযানের সময় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ উঠেছে, রক্তদান শিবির আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি এবং রক্ত সংগ্রহেও একাধিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছে। পাশাপাশি, মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে লোহিত রক্তকণিকা ও প্লাজমা ভিন রাজ্যে পাচারের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share