Fire Incident

রেসিডেন্সিয়াল থেকে ‘হোটেল বিল্ডিং’! দুই বাড়ি জুড়ে ‘এল’ আকৃতি, সরু গেটেই আটকে প্রাণ, নিউ মার্কেটের অগ্নিকাণ্ডে কাঠগড়ায় প্রশাসন

স্থানীয়দের দাবি, দু’টি বিল্ডিংকে জুড়ে ইংরেজি ‘এল’ আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই তিনতলা বাড়ির প্রতিটি তলেই গড়ে ওঠে হোটেল। ঘরগুলিও ছিল তুলনামূলক ছোট এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে রয়েছে পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১১:৩৬

এক সময় ওই বাড়িটি ছিল রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং। কিন্তু গত তিন-চার বছরে ধীরে ধীরে তার চরিত্র বদলে যায়। আবাসিক ভবন থেকে তা কমার্শিয়াল বিল্ডিংয়ে পরিণত হয়। স্থানীয়দের দাবি, দু’টি বিল্ডিংকে জুড়ে ইংরেজি ‘এল’ আকৃতির কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। পরে সেই তিনতলা বাড়ির প্রতিটি তলেই গড়ে ওঠে হোটেল। ঘরগুলিও ছিল তুলনামূলক ছোট এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের। মঙ্গলবার রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই বাড়ির তিনতলায় থাকা একটি হোটেলে আগুন লাগে। আগুন খুব দ্রুত ছড়িয়ে না পড়লেও মুহূর্তের মধ্যে গোটা বাড়ি ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে ঘটে গিয়েছে পরিণতি। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে ন'জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ছ'জন পুরুষ, দু'জন মহিলা এবং এক শিশু রয়েছে।

নিউ মার্কেট থানার এলাকার ওই হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হোটেলটির বৈধতা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। হোটেলের আবাসিক এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, যে ভাবে ওই বাড়িতে হোটেল খুলে ব্যবসা চালানো হচ্ছিল, তা নিয়মবহির্ভূত। তাঁদের দাবি, হোটেল তৈরির সময় প্রয়োজনীয় একাধিক নিয়ম মানা হয়নি। এমনকি আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও বাড়িটিতে ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের বাণিজ্যিক ভবনে জরুরি পরিস্থিতিতে বেরিয়ে আসার জন্য পৃথক এক্সিট গেট থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযোগ, ওই বাড়িতে এমন কোনও জরুরি প্রস্থানপথ ছিল না। হোটেলে ঢোকা এবং বেরোনোর জন্য ছিল মাত্র একটি গেট, সেটিও ছিল অত্যন্ত সরু। ফলে আগুন লাগার পর দ্রুত বেরিয়ে আসার ক্ষেত্রে বড়সড় সমস্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জানান, তিন-চার বছর আগে দু'টি বাড়ি জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। পিছনের দিকে থাকা সম্পূর্ণ ভিন্ন ঠিকানার বাড়িকে জোড়া হয়েছিল সামনের একটি বাড়ির সঙ্গে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। বাইরে বেরনোর পথ ছিল না বললেই চলে, থাকলেও তা খুবই সঙ্কীর্ণ।

হোটেলের আবাসিকদের কয়েক জন জানিয়েছেন, রাতে আগুন লাগার পর তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে হোটেল থেকে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তত ক্ষণে গোটা বাড়ি ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যাওয়ায় কোন পথ দিয়ে বেরোবেন, তা বুঝে উঠতে পারেননি তাঁরা। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ শৌচাগারে আশ্রয় নেন। পরে দমকলকর্মীরা সেখানে পৌঁছে তাঁদের উদ্ধার করেন। উল্লেখ্য, যে বাড়িতে আগুন লাগে, তার পাশেই রয়েছে দমকলের একটি দফতর রয়েছে।

এখানেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন। দমকল দফতরের একেবারে পাশে এ ভাবে হোটেল ব্যবসা চলছিল কী করে? এত দিন ধরে বিষয়টি রাজ্য প্রশাসনের নজরে এল না কেন? বহুতলে হোটেল চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মালিকদের কাছে আদৌ দমকলের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছিল কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী বলেন, , ‘কী করে এই হোটেলগুলো পারমিট পেল, ট্রেড লাইসেন্স পেল, সেটা তদন্ত করে দেখা খুবই প্রয়োজন। আমরা সব খতিয়ে দেখে কড়া ব্যবস্থা নেব। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী ঘটনার দিকে নজর রেখেছেন।’

অন্য দিকে, বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, হোটেলগুলি নির্মাণের সময় নিয়মকানুন মানা হয়নি। তাঁর দাবি, ঘরের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ভবনের পিলার কেটে অতিরিক্ত জায়গা তৈরি করা হয়েছিল। এর ফলে ভবনের কাঠামোগত শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সন্তোষের অভিযোগ, ‘‘এই ভবনগুলি মূলত আবাসিক ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়েছিল। পরে বেআইনি ভাবে সেগুলিকে বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।’’


Share