Cyber Crime

বালিগঞ্জের কলসেন্টার থেকে ব্রিটেনে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ, গ্রেফতার চার জন, উদ্ধার ল‍্যাপটপ-মোবাইল ফোন

পুলিশের দাবি, বিদেশি নাগরিকদের ‘কাস্টমার কলিং ডেটা’ সংগ্রহ করে টেলিকম সংস্থার পরিচয় দিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। শুক্রবার ধৃতদের আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৬ ০৪:২১

কলকাতার বালিগঞ্জের একটি কলসেন্টার থেকে ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ইংল্যান্ডে ফোন করে প্রতারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই কলসেন্টারে অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। পরে তালতলা এলাকা থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। সব মিলিয়ে ঘটনায় ধৃতের সংখ্যা চার।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাইবার প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর প্রযুক্তিগত তথ্য এবং গোয়েন্দা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক ভাবে অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বিকেলে বালিগঞ্জের ওই কলসেন্টারে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই তালতলা এলাকা থেকে আরও এক জনকে গ্রেফতার করা হয়। লালবাজার সূত্রের খবর, বিষয়টি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) এবং আয়কর বিভাগকেও জানানো হবে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রের মূল চাঁই বিহারের বাসিন্দা। ডার্ক ওয়েব-সহ বিভিন্ন সূত্র থেকে বিদেশি নাগরিকদের ফোন করার জন্য প্রয়োজনীয় ‘লিড’ বা ‘কাস্টমার কলিং ডেটা’ সংগ্রহ করা হত বলে অভিযোগ। এরপর ব্রিটেনের বাসিন্দাদের টার্গেট করে কলসেন্টারের প্রশিক্ষিত কর্মীদের একটি ছোট দল প্রতারণার কাজ চালাত।

অভিযোগ, টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হত। ‘ওয়্যারলেস ডেটা’, ‘রিপ্লেসমেন্ট’ কিংবা ‘কাস্টমার কেয়ার পরিষেবা’-র নামে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার কথা বলে তাঁদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করা হত। পরে বিভিন্ন কৌশলে কার্ডের তথ্য, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিবরণ এবং পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেওয়া হত। ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে ভিওআইপি অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে বিদেশে ফোন করা হত বলেও তদন্তকারীদের দাবি।

পুলিশের অভিযোগ, প্রতারণার ফাঁদ সফল হলে পাউন্ড, ডলার বা ইউরোর মতো বিদেশি মুদ্রায় বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হত। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন জোড়াসাঁকোর বাসিন্দা ফিরদৌস ইকবাল, বেনিয়াপুকুরের শেখ সাজ্জাদ, কসবার রূপম টিমোথি বিশ্বাস এবং তালতলার সাব্বির আলম।

শুক্রবার ধৃত চার জনকে আদালতে পেশ করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা ডেস্কটপ, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনের তথ্য বিশেষজ্ঞদের সাহায্যে খতিয়ে দেখা হবে। ওই সমস্ত ডিভাইস থেকে প্রতারিত ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য উদ্ধার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সংস্থার সহায়তায় প্রতারণার মাধ্যমে হাতানো অর্থের হদিশ ও তা উদ্ধারেরও চেষ্টা করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।


Share