YBK

মেসি-কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কালোবাজারি ও তোলাবাজির অভিযোগ, এফআইআর বিধাননগর থানার পুলিশের

এফআইআরের কপি পোস্ট করে শতদ্রু দাবি করেছেন, “সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।”

অরূপ বিশ্বাস ও লিয়োলেন মেসি
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০১:০৯

লিয়োনেল মেসির যুবভারতী সফর ঘিরে গত বছরের বিতর্কে নতুন মোড়। অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করেছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত।

এফআইআরের কপি পোস্ট করে শতদ্রু দাবি করেছেন, “সত্যের জয় হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বর্তমান ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্তকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) পাঁচটি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অভিন্ন উদ্দেশ্য, তোলাবাজি, প্রতারণা, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ।

শতদ্রুর অভিযোগ, গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠানের আগে তাঁর কাছে বিপুল সংখ্যক টিকিট দাবি করেছিলেন অরূপ বিশ্বাস। দাবি পূরণ না হলে অনুষ্ঠান বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি, প্রায় ২২ হাজার কমপ্লিমেন্টারি টিকিট নেওয়া এবং সেগুলি পরে কালোবাজারিতে বিক্রির অভিযোগও তোলা হয়েছে। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে অরূপ বিশ্বাসের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।

উল্লেখ্য, মেসির সফর ঘিরে যুবভারতীতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ, বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি’পলও ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়েন। শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তারক্ষীরা মেসিকে দ্রুত মাঠের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যান। এরপর স্টেডিয়ামের গ্যালারিতেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে আসেন এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। এই ঘটনার জেরে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথম মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল আয়োজক শতদ্রু দত্তকে। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়।

এর আগে, গত ১৯ মে শতদ্রু দত্ত অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, তৎকালীন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, কয়েক জনের হস্তক্ষেপ এবং অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশের কারণেই গোটা অনুষ্ঠান কার্যত ভেস্তে যায়।

আদালতে মামলার শুনানির সময় পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখার জন্য টিকিট কেটেছিলেন এবং টিকিট বিক্রি থেকে প্রায় ১৯ কোটি টাকা আয় হয়েছিল।


Share