RG Kar Hospital

আরজি কর মেডিকেলে দুর্ঘটনায় গ্রেফতার তিন লিফটম‍্যান-সহ পাঁচ জন, তদন্তে নামছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা হলেন লিফ্‌টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাস।

আর জি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ মার্চ ২০২৬ ০৩:৪৩

আরজি কর হাসপাতালে লিফটে আটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব‍্যক্তির। সেই ঘটনায় পাঁচ জনকে গ্রেফতার করল টালা থানার পুলিশ। ধৃতরা হলেন তিন জন লিফটম্যান ও দু'জন নিরাপত্তারক্ষী। শুক্রবার ওই পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডাকা হয়েছিল। শনিবার অভিযুক্তদের শিয়ালদহ আদালতে হাজির করা হবে। এই ঘটনার তদন্তভার লালবাজারের হোমিসাইড শাখা নিতে চলেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা হলেন লিফ্‌টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ, নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান এবং শুভদীপ দাস।

চার বছরের ছেলের চিকিৎসা করাতে আরজিকর হাসপাতালে এসেছিল মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার ভোরে আহত অবস্থায় অরূপকে লিফ‌ট থেকে উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মৃতের শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর হাত, পা, পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। তাঁর হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, যকৃৎও ফেটে গিয়েছে।

আরজি কর হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায় জানান, মৃত অরূপের বাবা তাঁর কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। সেই অভিযোগ টালা থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার ভিত্তিতে অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের হয়। সপ্তর্ষি বলেন, ‘‘পরিবারের বক্তব্য, লিফ‌টে আটকে অরূপ আহত হন। লিফ‌্ট ঠিকঠাক চলছিল। একটি বোতাম চাপা হয়, তার পরেই লিফ্‌ট ওঠা-নামা করে। তাতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা।’’ হাসপাতালের সুপারের কথায়, ‘‘পরিবারের বক্তব্য অনুসারে, লিফট একটি জায়গায় নামে। ভিতরে আটকে থাকা তিন জন বেরোতে যান। কিন্তু লিফ্‌টের বাইরে সেখানে কোলাপসিপল গেট ছিল। সেই সময় তিনি বেরোতে যান, তখন লিফ্‌ট উঠতে শুরু করে। সেই সময় লিফট এবং দেওয়ালের মাঝে আটকে পড়েন অরূপ।’’ তিনি আরোও বলেন, ‘লিফট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পূর্ত বিভাগের। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনিও বুঝে উঠতে পারছেন না, লিফটম্যান সে সময়ে কোথায় ছিলেন!

এই গাফিলতির দায় কার, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। কে দোষ ঘাড়ে নেবে? তাই সকলে সাফাই দিচ্ছেন। যদিও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘ইচ্ছে করে মেরে দিয়েছে। এখনই খুনের মামলা রুজু করা উচিত। আমার কাছে তথ্য আছে, রিপেয়ারিং করা হচ্ছিল লিফটটি। আন্ডার–মেনটেন্যান্স লিফটে রোগীকে চাপিয়ে খুন করেছে। তাই প্রত্যক্ষ খুনের জন্য দায়ী আরজি করের সুপার, স্বাস্থ্য দফতর, স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।’


Share