Firhad Hakim

কলকাতা পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক জল্পনা, মেয়র পদ ছাড়তে ইচ্ছা প্রকাশ করলেন ফিরহাদ হাকিম

তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ফিরহাদ হাকিম
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ০৯:৪১

কলকাতা পুরসভাকে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের সূত্রে খবর, কলকাতার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও কলকাতা বন্দরের বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রশাসনিক বৈঠক ডেকেছিলেন। ফিরহাদ হাকিম সেই বৈঠকে অংশ নিতে নবান্নে উপস্থিত হয়েছিলেন। বৈঠক শেষে কলকাতায় ফেরেন। তারপর তিনি মেয়র পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান বলে দলীয় সূত্রে খবর। তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কুণালের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে কলকাতা পুরসভায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ফিরহাদ দলনেত্রীকে জানিয়েছেন। প্রথমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে পদে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরে সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাওয়ার আবেদন মেনে নেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের নভেম্বরে ফিরহাদ হাকিম কলকাতার মেয়র পদে বসেন। তিনি কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সালেও দ্বিতীয়বার তিনি মেয়র নির্বাচিত হন। দীর্ঘদিন ধরে মন্ত্রীত্ব ও মেয়রের দায়িত্ব একসঙ্গে সামলেছেন তিনি। তারপরে তাঁর এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে।

এর আগে মঙ্গলবার কলকাতা পুরনিগমের মেয়র পারিষদ (নিকাশি) পদ থেকে ইস্তফা দেন তারক সিংহ। ইস্তফার পর তিনি দলীয় নেতৃত্বের সমালোচনা করে দাবি করেন, কর্মী-সমর্থকদের যথাযথ সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না। একইসঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে তৃণমূলের প্রতীকে আর নির্বাচনে না লড়ার কথাও ঘোষণা করেন। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা করেন। তারকের পদত্যাগের পর ফিরহাদ হাকিম বলেছিলেন, তাঁরা দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও সম্মিলিতভাবেই নেন।

বুধবার দিনভর তৃণমূল রাজনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। দল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে বিরোধী দলনেতার পদে আসীন হয়েছেন। একই দিনে তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক নির্বাচনে দলের খারাপ ফল। সংগঠনের মধ্যে ভাঙনের সম্ভাবনা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই সাংগঠনিক রদবদল করা হচ্ছে। ছাত্র, যুব, শ্রমিক ও মহিলা সংগঠনকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ হিসেবে এই পদক্ষেপকে দেখা হচ্ছে।

এ দিন কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এরই মধ্যে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে ইডির নোটিস পৌঁছনোর খবরও সামনে আসে। একাধিক রাজনৈতিক ঘটনার আবহে ফিরহাদ হাকিমের সম্ভাব্য ইস্তফা ঘিরে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে।


Share