Indranil Sen

ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোয় টিকিট বাণিজ্যের অভিযোগ! প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের বিরুদ্ধে পুলিশের দ্বারস্থ অভিযোগকারীরা

অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ই-মেল এবং সংশ্লিষ্ট আইনি নথি অভিযোগপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই নথিতে এই ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের কোনও অনুমোদনের উল্লেখ নেই।

প্রাক্তন মনে ইন্দ্রনীল সেন।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৯ জুন ২০২৬ ১২:৩২

কলকাতার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে বেআইনি বাণিজ্য এবং ইউনেস্কোর নাম বিভ্রান্তিকর ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাক্তন মন্ত্রী ও সঙ্গীতশিল্পী ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেন-সহ মোট পাঁচ জনের বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সোমবার বিকেলে কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ, রাজ্যের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং বৌবাজার থানায় এই অভিযোগ জমা পড়ে। ইন্দ্রনীল ও মধুছন্দা সেন ছাড়াও অভিযোগে নাম রয়েছে ধ্রুবজ্যোতি বসু (শুভ), সায়ন্তন মৈত্র এবং রাজন চট্টোপাধ্যায়ের। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন মেঘদূত ফাউন্ডেশনের কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং সগুনা মুখোপাধ্যায়।

অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুর্গাপূজাকে ঘিরে ‘প্রিভিউ শো’ এবং ‘প্রিভিলেজড পুজো এন্ট্রি’ নামে টিকিট বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেখানে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, প্রচারের ধরণ এমন ছিল যাতে মনে হতে পারে কর্মসূচিটির সঙ্গে ইউনেস্কোর প্রত্যক্ষ অনুমোদন বা অংশীদারিত্ব রয়েছে। অথচ ইউনেস্কো কোনও বাণিজ্যিক চুক্তি বা অংশীদারিতে সম্মতি দেয়নি বলেই তাঁদের দাবি। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত ই-মেল এবং সংশ্লিষ্ট আইনি নথি অভিযোগপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই নথিতে এই ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের কোনও অনুমোদনের উল্লেখ নেই।

এ ছাড়াও, অভিযোগ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যটনের নামে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে একটি বাণিজ্যিক মডেল গড়ে তুলে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে আর্থিক লাভের চেষ্টা হয়েছে। অভিযোগকারীদের মতে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত কলকাতার দুর্গাপূজার ঐতিহ্যকে এ ভাবে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা তার ভাবমূর্তির পক্ষে ক্ষতিকর।

ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে। তবে এই বিষয়ে ইন্দ্রনীল সেন বা মধুছন্দা সেনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, অভিযোগের সত্যতা এবং জমা দেওয়া নথিপত্র খতিয়ে দেখার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


Share