CCTNS Portal

অনলাইনে এফআইআর কপি আপলোড করতেই হবে, কমিশনারের রোষানলে কয়েকটি থানার ওসি, কড়া নির্দেশ অজয় নন্দের

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের পুলিশকে সিসিটিএনস পোর্টালে তথ্য আপলোড করা বাধ্যতামূলক। তৃণমূল জমানায় পুলিশের এই কাজ লাটে উঠলেও পালাবদলের পরে প্রযুক্তিগত সমস‍্যা মিটিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করা হয়েছে।

কলকাতা পুলিশের সদর দফতর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০২

অনলাইনে এফআইআর এবং মামলার চার্জশিটের কপি সময় মতো ক্রাইম অ‍্যান্ড ক্রিমিনাল ট্র্যাকিং নেটওয়ার্ক অ‍্যান্ড সিস্টেম (সিসিটিএনএস) পোর্টালে আপলোড করতেই হবে। ‘পরে করব’, এমন মনোভাব কোনও মতেই বরদাস্ত করা হবে না। গত শনিবার লালবাজারে পুলিশ কমিশনার অজয়কুমার নন্দ এই বিষয়ে থানার এবং গোয়েন্দা বিভাগের ওসিদের নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠক থেকেই কমিশনার এমন নির্দেশ দিয়েছেন।

লালবাজার সূত্রে খবর, সিসিটিএনএস পোর্টালে এফআইআর কপি আপলোড হওয়ার ব‍্যবস্থা চালু হয়ে যাওয়ার পরেও বেশ কিছু থানা নির্দেশ পালন করছেন না। আপলোড করতে দেরি হচ্ছে বা কোনও ক্ষেত্রে হচ্ছেই না। বিশেষ করে কলকাতা পুলিশের পূর্ব ডিভিশন এবং পূর্ব শহরতলির ডিভিশনের একাধিক থানার ক্ষেত্রে এমন প্রবণতা কমিশনারের নজরে এসেছে। তাই ওই সমস্ত থানার ওসিদের সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। ‘পরে করব,’ এমন মনোভাব নিয়ে চলা যাবে না। সময়ের কাজটা সময়েই সারতে হবে। এমন ঘটনার যদি পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কমিশনার অজয়কুমার নন্দ।

শুধু এফআইআর কপি নয়, যে মামলায় চার্জশিট হয়েছে সেই সমস্ত নথিপত্রও ইন্টার অপারেবল ক্রিমিনাল জাস্টিস সিস্টেম (আইসিজেএস) পোর্টালে আপলোড করতে হবে। আইসিজেএস হল সিসিটিএনএস নেটওয়ার্কের একটি অংশ। পুরোনো মামলার চার্জশিটও এই পোর্টালে সমান্তরাল ভাবে আপলোড করে দিতে হবে। এই কাজে আগের চেয়ে বেশি গতি আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট পাঠাতে হবে।

এ ছাড়াও, নাবালিক বা নাবালিকা নিখোঁজ হওয়ার পরে এফআইআর দায়ের করতে হয়। তার পরে অনেক সময় দেখা যায়, খুন বা যৌন হেনস্থার মতো ঘটনা ঘটে। তাই এফআইআর দায়ের করার পরেই দ্রুত সন্ধান করতে হবে। কোনও নিখোঁজ ব‍্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায় তা হলে ‘মিসিং পোর্টাল’-এ তথ‍্য আপলোড করে দিতে হবে। সেই কাজও ফেলে রাখা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছেন কমিশনার। পাশাপাশি, পকসো মামলার যাতে দ্রুত বিচার হয় তার ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোন বিচারপ্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে ট্রায়াল মনিটরিং বিভাগকে। প্রয়োজনে পরামর্শ দিতে পারবে তাঁরা। এলাকায় বাইক চুরির বিষয়টি নিয়েও প্রত‍্যেক থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজ্যের পুলিশকে সিসিটিএনস পোর্টালে তথ্য আপলোড করা বাধ্যতামূলক। তৃণমূল জমানায় পুলিশের এই কাজ লাটে উঠলেও পালাবদলের পরে প্রযুক্তিগত সমস‍্যা মিটিয়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করা হয়েছে। এই এফআইআর কপি অত‍্যন্ত গুরু‍ত্বপূর্ণ। এই কপি ডাউনলোড করেই দু’পক্ষ আদালতে মামলা লড়ার প্রস্তুতি নেন। ধর্ষণ, পকসো বা যৌন হেনস্থার মামলার এফআইআর কপি ‘স্পর্শকাতর’ তাই তা আপলোড করা হয় না। কারও কারও অভিযোগ, এমন অনেক মামলা রয়েছে যা ‘স্পর্শকাতর’ বলে দাবি করে আপলোড করা হচ্ছে না। কমিশনারের নির্দেশের পরে তা বাস্তবায়িত হয় কি না সেই দিকে নজর থাকবে।

উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে থানার ওসিরা দায়িত্ব নিয়ে মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র আপলোড করছেন। তবে মামলার চাপ, লোকবলের অভাব, নতুন প্রযুক্তিকে দ্রুত এবং সঠিক ভাবে ব‍্যবহার করা পদ্ধতি অনেকেই রপ্ত যে করতে পারেননি তা মেনে নিয়েছে লালবাজারের এক কর্তা। সে ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণও দেওয়ারও ব‍্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছিলেন এক কর্তা।


Share