Calcutta High Court

জাল স্কোরকার্ডে নিট মামলা! আদালতকে বিভ্রান্তির অভিযোগে আবেদন খারিজ, এনটিএ-কে কড়া আইনি পদক্ষেপের নির্দেশ কলকাতা হাই কোর্টের

এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আবেদনকারীর মামলা খারিজ করে আদালত ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

কলকাতা হাই কোর্ট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ০৪:০২

নিট (২০২৬) পরীক্ষাকে ঘিরে দায়ের হওয়া এক মামলায় জাল ও বিকৃত নথি আদালতে জমা দেওয়ার অভিযোগে কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানির সময় আদালত প্রাথমিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে, ভুয়ো নথি পেশ করে বিচার প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আবেদনকারীর মামলা খারিজ করে আদালত ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার শুনানিতে আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী রবিশঙ্কর চট্টোপাধ্যায় আদালতে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল নিট (২০২৬) পরীক্ষার জন্য তিনটি পৃথক স্কোরকার্ড পেয়েছেন। এই অসঙ্গতির জেরেই আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে তিনি যুক্তি দেন। তাঁর বক্তব্য, একই পরীক্ষার্থীর নামে একাধিক স্কোরকার্ড প্রকাশ হওয়া অস্বাভাবিক এবং বিষয়টি বিচারিক তদন্তের দাবি রাখে।

অন্য দিকে, আবেদনকারীর দাবি সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে এনটিএ-র পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, আবেদনকারীর জমা দেওয়া নথিগুলি জাল ও বিকৃত। তাঁর দাবি, আদালতে যে স্কোরকার্ডটি ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষার বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি আসলে ২০২৫ সালের স্কোরকার্ড। অর্থাৎ, ভুল তথ্য ও ভুয়ো নথি দেখিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেই এনটিএ-র অভিযোগ।

এনটিএ আদালতে জানায়, আবেদনকারীর পক্ষ থেকে জমা দেওয়া ওএমআর শিটটিও আসল নয়। সংস্থার দাবি, ওই নথি বিকৃত করা হয়েছে এবং তা প্রকৃত পরীক্ষার রেকর্ডের সঙ্গে কোনওভাবেই মেলে না। তাই আদালতে পেশ করা নথিগুলির কোনওটিকেই নির্ভরযোগ্য বা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না এনটিএ।

শুনানির সময় এনটিএ আরও জানায়, এই ঘটনার জেরে আবেদনকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, তাঁকে আগামী তিন বছর নিট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। সংস্থার বক্তব্য, পরীক্ষা-সংক্রান্ত নথি জাল বা বিকৃত করে আদালতে পেশ করার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এ ধরনের কাজ পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার উপর সরাসরি আঘাত হানতে পারে।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি অমৃতা সিনহা প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানান, জাল ও বিকৃত নথি ব্যবহার করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আদালত স্পষ্ট জানায়, বিচারপ্রক্রিয়ার সামনে ভুয়ো নথি পেশ করার অভিযোগকে কোনওভাবেই হালকাভাবে দেখা যায় না।

এরপর আবেদনকারীর মামলা খারিজ করে দেন বিচারপতি। পাশাপাশি, আবেদনকারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয় এনটিএ-কে। আইন মহলের মতে, এই নির্দেশ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আদালত এ দিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, জাল বা বিকৃত নথি ব্যবহার করে বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Share