Aroop Biswas

মেসির টিমের বিস্ফোরক ই-মেল, যুবভারতী কাণ্ডে সরাসরি অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে অনুষ্ঠান ছাড়েন মেসি

মেসির দলের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সূচির বাইরে গিয়ে তৎকালীন মন্ত্রী একাধিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকে ব্যাহত করে।

যুবভারতীতে মেসিকে ধরে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ ০৪:০০

মেসির কলকাতা সফর ঘিরে গত বছরের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের বিতর্কে নতুন মোড়। এ বার সরাসরি তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের কাছে ই-মেল পাঠিয়েছে মেসির টিমের এক সদস্য। তিনি ‘গোট ট্যুর’-এ মেসির পরামর্শদাতা হিসেবে কলকাতায় এসেছিলেন এবং অনুষ্ঠানের দিন মাঠেও উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস মাঠে প্রবেশ করার পর থেকেই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। মেসির দলের অভিযোগ, অনুষ্ঠানের নির্ধারিত সূচির বাইরে গিয়ে তৎকালীন মন্ত্রী একাধিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, যা পুরো ব্যবস্থাপনাকে ব্যাহত করে।

ই-মেলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অরূপ বিশ্বাস বারবার মেসির সংস্পর্শে যাওয়ার চেষ্টা করেন, ছবি তোলার জন্য তাঁর কাঁধ ও কোমরে হাত রাখেন। পাশাপাশি, তাঁর সঙ্গে এমন বহু মানুষ মাঠে প্রবেশ করেছিলেন, যাঁদের সেখানে থাকার অনুমতি ছিল না। যেখানে মাত্র তিন জন আলোকচিত্রী থাকার কথা ছিল, সেখানে প্রায় ৪০ জন উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ। এর ফলে মেসির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয় এবং তিনি বিরক্ত বোধ করেন। সেই কারণেই নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠান ছাড়তে বাধ্য হন বলে দাবি করা হয়েছে।

মেসির টিমের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত এই ঘটনার জন্য দায়ী নন। মাঠের পরিস্থিতি তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শতদ্রু দত্ত বলেন, ‘‘এটা অবশ্যই তদন্তে সাহায্য করবে।’’

এর আগেও মেসির সফর ঘিরে বিশৃঙ্খলার জন্য অরূপ বিশ্বাসকে দায়ী করেছিলেন শতদ্রু। এ বার অরূপের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রক্ষাকবচকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবী অরিন্দম জানা। আদালত ইতিমধ্যেই মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে এবং চলতি সপ্তাহেই শুনানি হতে পারে বলে সূত্রের খবর।

উল্লেখ্য, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর গ্রেফতারি এড়াতে তিনি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁকে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেন এবং তদন্তে সহযোগিতার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়।

শতদ্রু দত্তের অভিযোগ, মেসির অনুষ্ঠানের জন্য ছাপানো প্রায় ৭০ হাজার টিকিটের মধ্যে ২২ হাজার টিকিট তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী নিজের প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে নিয়েছিলেন। সেই টিকিট পরিচিতদের মধ্যে বিলি করার পাশাপাশি বিক্রিও করা হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। অনুষ্ঠান ঘিরে হওয়া যাবতীয় বিশৃঙ্খলার জন্যও তিনি অরূপ বিশ্বাসকেই দায়ী করেছেন।

এই অভিযোগগুলির তদন্তে অরূপকে একাধিকবার তলব করেছিল পুলিশ। প্রথমবার তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরা এড়িয়ে যান। পরে গ্রেফতারির আশঙ্কায় আদালতের শরণাপন্ন হয়ে রক্ষাকবচ পান। তবে তার আগেই পুলিশের তৃতীয় নোটিস তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। 


Share