Liqour License

মদের লাইসেন্সে নতুন নিয়ম আবগারি দফতরের, বাতিল-সমর্পিত দোকানের জায়গাও ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে গণ্য

এর ফলে আগে বিদেশি মদ (এফএল) বিক্রির লাইসেন্স থাকা জায়গা এবং লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া মদের দোকানের জায়গাকেও নির্দিষ্ট শর্তে নতুন লাইসেন্সের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হল।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৮

রাজ্যে খুচরো মদ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়ার নিয়মে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল সরকার। নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কোন জায়গাকে ‘নতুন সাইট’ এবং কোনটিকে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে গণ্য করা হবে, তা স্পষ্ট করা হয়েছে। এর ফলে আগে বিদেশি মদ (এফএল) বিক্রির লাইসেন্স থাকা জায়গা এবং লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া মদের দোকানের জায়গাকেও নির্দিষ্ট শর্তে নতুন লাইসেন্সের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হল। আবগারি দফতরের এই সংশোধনীতে শহরাঞ্চলে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে মদের দোকানের ন্যূনতম দূরত্বের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।

১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত কলকাতা গেজেটের বিজ্ঞপ্তি নম্বর ১৫৯২-এফটি-তে পশ্চিমবঙ্গ আবগারি (নতুন সাইট নির্বাচন এবং খুচরো মদ ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য বিক্রির লাইসেন্স প্রদান) বিধি, ২০০৩-এ সংশোধন করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন থেকেই সংশোধনগুলি কার্যকর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনের ৩০, ৮৫ ও ৮৬ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগে যে জায়গায় এফএল ট্রেড লাইসেন্স ছিল, নির্দিষ্ট শর্ত এবং বিধি ৮-এর নিষেধাজ্ঞা মেনে সেই জায়গার লাইসেন্সধারী ৪(ই) শ্রেণির খুচরো লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নতুন সাইটে আবেদন জমা পড়ার পর জেলা প্রশাসনের কালেক্টর জায়গাটি পরিদর্শন ও তদন্ত করবেন। সাইটটি বিধিনিষেধমুক্ত বলে মনে হলে আবেদনটি আবগারি কমিশনারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। কমিশনার অনুমোদন দিলে নির্ধারিত ফি নিয়ে লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বিদেশি মদের ‘অন’ দোকানের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির কোনও এফএল ‘অন’ দোকানকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ৪(পি) শ্রেণির লাইসেন্সের সাইট হিসেবে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, আগে থেকেই মদের ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত জায়গাকে নতুন শ্রেণির লাইসেন্সের জন্য কাজে লাগানোর রাস্তা খুলল। ৪(পি) শ্রেণির লাইসেন্সের ক্ষেত্রে দু’ধরনের জায়গাকে ‘বিদ্যমান সাইট’ হিসেবে ধরা হবে। এক, ৪(এইচ) থেকে ৪(কে) শ্রেণির কোনও এফএল ‘অন’ দোকান, যেখান থেকে নতুন ৪(পি) লাইসেন্সের ব্যবসা চালানো হবে। দুই, আগের লাইসেন্স বাতিল, প্রত্যাহার বা সমর্পণের কারণে যেখানে খুচরো মদ বা অন্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিক্রি বন্ধ হয়ে গিয়েছে, সেই জায়গা। সংশোধনী কার্যকর হওয়ার আগে জমা পড়া আবেদনগুলিও নতুন নিয়ম অনুযায়ী নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে।

দূরত্বের নিয়মেও বড় পরিবর্তন হয়েছে। শহরাঞ্চলে ধর্মীয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন মদের দোকানের দূরত্বের মাপকাঠি এক হাজার ফুট থেকে কমিয়ে ৫০০ মিটার করা হয়েছে। তবে পুরসভা-বহির্ভূত এলাকায় আগের মতোই দূরত্বের সীমা এক কিলোমিটার থাকছে। এই পরিবর্তন শুধুমাত্র নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে চালু থাকা দোকান এর আওতায় পড়বে না।

কোনও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রবেশপথ থাকলে, প্রস্তাবিত মদের দোকান থেকে সেই প্রবেশপথগুলির যে কোনও একটির দূরত্ব নিষিদ্ধ সীমার মধ্যে পড়লেই সংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। তবে সংশোধনী প্রকাশের আগে রাজ্য সরকারের অনুমোদন পাওয়া লাইসেন্সের আবেদন বা ‘লেটার অব ইনটেন্ট’-এর ক্ষেত্রে নতুন দূরত্বের নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এ ছাড়াও, শপিং মল বা শপিং সেন্টারে থাকা বিয়ার, ওয়াইন ও এলএবি দোকানের লাইসেন্সের ক্ষেত্রেও কয়েকটি সংশোধন আনা হয়েছে। বিধি ৮-এর তৃতীয় নোট বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ১১ নম্বর বিধিতে ‘সোসাইটি’-র সঙ্গে ভারতের প্রচলিত আইনে নথিভুক্ত অন্যান্য সংস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আবগারি দফতরের এই সংশোধনের ফলে পুরনো বাণিজ্যিক পরিকাঠামোকে ফের মদের ব্যবসার কাজে ব্যবহারের সুযোগ বাড়ল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ। বিশেষ করে আগের লাইসেন্স বাতিল বা সমর্পণের পর দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানের জায়গা নতুন লাইসেন্সের ক্ষেত্রে বিবেচিত হওয়ায় আবেদনকারীদের সুবিধা হতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট লাইসেন্সের শর্ত এবং বিধি ৮-এর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে মদ বিক্রির লাইসেন্সের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি রাজ্যের আবগারি রাজস্বও বাড়বে বলে আশা দফতরের। 


Share