YBK

যুবভারতীকান্ডে শতদ্রু জামিন পেলেও, টাকা ফেরত পেলেন না দর্শকেরা, প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনও হল না পূরণ

সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত ঘটনাদিনেই গ্রেফতার হন এবং পরে অন্তর্বর্তী জামিন পান। জামিনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব একটা সামনে আসছেন না বলেই অভিযোগ। ফলে টাকা ফেরত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৪

দু’মাস পেরিয়েও প্রতিশ্রুতি অপূর্ণই রয়ে গেল। গত ১৩ ডিসেম্বর লিয়োনেল মেসিকে ঘিরে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার পরপরই রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার বলেছিলেন, দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত এবং তা না হলে আইনি পদক্ষেপ হতে পারে। তিনি ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছেন, কিন্তু অধিকাংশ দর্শক এখনও টাকা ফেরত পাননি।

সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত ঘটনাদিনেই গ্রেফতার হন এবং পরে অন্তর্বর্তী জামিন পান। জামিনের পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব একটা সামনে আসছেন না বলেই অভিযোগ। ফলে টাকা ফেরত নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটি সরাসরি নির্দেশ না দিলেও টিকিটের অর্থ ফেরতের পক্ষে ইতিবাচক মনোভাব দেখায়। পরবর্তীতে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন হয় এবং তারাও আদালতে বারবার রিফান্ডের পক্ষে মত দেয়। তবু বাস্তবে কোনও অর্থ ফেরত মেলেনি।

ওই দিন বহু দর্শক দূরদূরান্ত থেকে মেসিকে এক ঝলক দেখার আশায় স্টেডিয়ামে ভিড় করেছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি’পল। ভিআইপি ভিড় ও অব্যবস্থাপনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে ফুটবলারদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকেরা এবং ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। তখনই রিফান্ডের দাবি জোরালো হয়।

তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন তৎকালীন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও নন্দিনী চক্রবর্তী। তাঁদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সিট গঠিত হয়। সেই দলে ছিলেন বর্তমান ডিজি পীযূষ পাণ্ডে, বিধাননগর কমিশনার মুরলীধর শর্মা এবং কলকাতার কমিশনার সুপ্রতিম সরকার।

তদন্তে উঠে আসে, একটি অনলাইন সংস্থার মাধ্যমে ৩৪ হাজার ৫৭৬টি টিকিট বিক্রি হয়েছিল এবং টিকিট বিক্রি থেকে ২০ কোটিরও বেশি টাকা ওঠে। আয়োজকের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ২২ কোটি টাকা ‘ফ্রিজ়’ করা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, সেই অর্থ থেকেই রিফান্ড সম্ভব। তবে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ এখনও আসেনি।

আয়োজকের দাবি, তাঁর দোষ প্রমাণের আগেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হলে তা অন্যায় হবে। উপরন্তু টিকিটে ‘নো রিফান্ড’ শর্তও নাকি লেখা ছিল। ফলে আইনি জট কাটেনি।

এই দীর্ঘ অপেক্ষার প্রতীক হয়ে আছেন হাওড়ার বাসিন্দা অনিন্দিতা বেরাদের মতো বহু দর্শক। ১৩ হাজার টাকা করে টিকিট কেটেও তাঁরা প্রিয় ফুটবলারকে দেখতে পাননি। অনেকে এখনও টিকিট সংরক্ষণ করে রেখেছেন স্মৃতি হিসেবে, আবার সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবেও।

মেসি ফিরে গিয়েছেন, কর্তারা বদলেছেন, মামলা এগোয় ধীরগতিতে আর দর্শকদের হাতে রয়ে গেছে শুধু টিকিট আর অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি।


Share