Medical College Clash

কলকাতা মেডিকেলে ইঞ্জেকশন দেওয়ার পর মৃত্যু নাবালকের, উঠছে গাফিলতির অভিযোগ, তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন

দ্বিতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই নাবালকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও নাবালক
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১১:২৯

পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১১ বছরের নাবালক। কিন্তু জরুরি বিভাগে পরপর দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রবিবার উত্তেজনা ছড়ায় কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। ঘটনার তদন্তে এবার চার সদস্যের কমিটি গঠন করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার মৃত নাবালকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের দাবি, ভুল চিকিৎসার কারণেই পবনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকালে পেটে ব্যথার সমস্যা নিয়ে তাকে কলকাতা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। সেখানে তাকে দু’টি ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। দ্বিতীয় ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে মৃতের পরিবারের সদস্যদের সংঘর্ষও হয়।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছোন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তিনি ঘটনার যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেন। তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও তিনি জানান। এরপরই চার সদস্যের কমিটি তৈরি করা হয়। কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন শিশুশল্য বিভাগের অধ্যাপক রাকেশ মণ্ডল। অন্য সদস্যরা হলেন শিশুশল্য বিভাগের প্রধান সুজয় মিত্র, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ইমরান আলী এবং মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক সঞ্জয় মণ্ডল।

অন্যদিকে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ চিকিৎসকদের একাংশ। এক জুনিয়র চিকিৎসকের বক্তব্য অনুযায়ী, পবনের পেটে ব্যথা কমাতে প্রথমে ডর্টিন ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছিল। এরপর গ্যাসের সমস্যার জন্য ওষুধ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। সেই মতো রোগীর আত্মীয়দের প্যান্টোপ্রাজল আনতে বলা হয়েছিল। কিন্তু ওই ওষুধ আনতে দেরি হওয়ায় বিকল্প হিসেবে র‍্যানটাক আইএম ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় বলে দাবি চিকিৎসকের।

চিকিৎসকদের একাংশের দাবি, ওই ইঞ্জেকশন দেওয়ার পরেই শকে চলে যায় নাবালক। পরে হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে তার মৃত্যু হয়। তাঁদের বক্তব্য, পেটে ব্যথার চিকিৎসায় এই ধরনের ওষুধের প্রয়োগ অস্বাভাবিক নয়। ওষুধ দেওয়ার পর ব্যথা কমলে এক্স-রে করানোর পরিকল্পনাও ছিল। তবে তার আগেই পবনের মৃত্যু হয়। ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।


Share